ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলে নিজেদের শক্তি আরও জোরাদার করতে এসব সেনাদের পাঠানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র বিগ্রেডিয়ার জেনারেল প্যাট্রিক রিডার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র জানান, এ অঞ্চলের সেন্ট্রাল কমান্ডে আরও ৩০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব সেনারা মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে অবস্থান করবেন।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জানান, এসব অতিরিক্ত সেনারা এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাদের সক্ষমতা বাড়ানো, বিস্ফোরক অস্ত্র নিষ্পত্তি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে।
রিডার পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে ওই ৩০০ সেনাকে কোথায় পাঠানো হবে তা স্পষ্ট করে বলেননি। তবে তিনি এটুকু নিশ্চিত করেছেন, এসব সেনাদের ইসরায়েলে পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, আমাদের আগ্রহ হলো আঞ্চলিক প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সুরক্ষাকে আরও জোরদার করা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে সেনা পাঠানোর আগে পেন্টাগনের উপপ্রেস সচিব সাবরিনা সিং সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করে চলেছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নিয়ে আমাদের কোনো বিধিনিষেধ নেই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীই তাদের অপারেশন পরিচালনার ধরন নির্ধারণ করবে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েল যেভাবে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের ভেতরে কোনো ধরনের উদ্বেগ আছে কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে জবাব দেননি সাবরিনা সিং। তবে তিনি বলেছেন, ইসরায়েল যেন যুদ্ধের নীতি মেনে চলে যতটা সম্ভব সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা এড়িয়ে চলে তার ওপর জোড় দিচ্ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকেই তেল আবিবের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের সমর্থনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পর্যন্ত তেল আবিবে ছুটে গেছেন। এ ছাড়া হামলার পরপরই দেশটির সহায়তা দুটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ ও দুই হাজার নৌসেনা পাঠিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। সম্প্রতি আবার মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মন্তব্য করুন