বিরোধীদের নতুন জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে একহাত নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জোটটিকে ‘দিকনির্দেশনাহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, বিরোধী জোট ভারতকে ধারণ করে না। যেমন ধারণ করে না ‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন’ নাম রাখা জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। মঙ্গলবার বিজেপির পার্লামেন্টারি পার্টির সাপ্তাহিক বৈঠকে মোদি এসব কথা বলেন। মোদিকে উদ্ধৃত করে বিজেপি নেতা রবি শঙ্কর এসব কথা জানান। এদিকে মণিপুর ইস্যুতে লোকসভায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। খবর এনডিটিভির।
মঙ্গলবার বিজেপির পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমি এমন দিকনির্দেশনাহীন বিরোধী দল আর কখনোই দেখিনি। উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপিবিরোধী ২৬টি দল মিলে গঠন করে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স বা ইন্ডিয়া। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত হয়েছে এ জোট। জোটের সমালোচনা করে মোদি বলেন, তারা নিজেরাই নিজেদের জোটের নাম ইন্ডিয়া নিয়ে প্রশংসা করে যাচ্ছে; কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া—এসব গোষ্ঠীর নামেও তো ইন্ডিয়া রয়েছে। তাই শুধু জোটের নাম ইন্ডিয়া রাখায় কিছুই হবে না। মোদি বলেন, দেশের নামে জোটের নাম রেখে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। এ মন্তব্য এমন একসময় এলো, যখন মণিপুরে জাতিগত সংঘাতের ঘটনায় দুই নারীকে নগ্ন করে ঘোরানোয় উত্তাল ভারত। এমনকি বিষয়টি নিয়ে মোদির অস্বাভাবিক দীর্ঘ নীরবতায় বিরোধীরা দেশটির লোকসভায় সরব। মোদি ইন্ডিয়া জোটকে পরাজিত, ক্লান্ত, হতাশ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের শুধু একটাই এজেন্ডা, মোদি হটাও। মোদি আরও বলেন, তবে তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, তারা নিজেদের বিরোধী দল হিসেবে রেখে দিতে চায়।
এদিকে মণিপুর ইস্যুতে লোকসভায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে ২৬টি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোট। এ বিষয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ সব দল একমত হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল লোকসভা অধিবেশনের আগে জোটের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০০৩ সালের পর সরকারের বিরুদ্ধে তা হবে প্রথম কোনো অনাস্থা প্রস্তাব। সে সময় অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল।
বর্তমানে লোকসভায় বিজেপির যে আসন রয়েছে, তাতে অনাস্থা প্রস্তাবে কোনো সমস্যা হবে না মোদি সরকারের; কিন্তু তার পরও এ ধরনের প্রস্তাব এনে সরকারের ওপর বিরোধীরা একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগ করতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন