সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১
রাজকুমার নন্দী
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৩৬ এএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৫৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপিতে নানা গুঞ্জন

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন
বিএনপির লোগো

সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে থাকলেও নানা কারণে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বিএনপি। ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ ঘিরে সহিংস ঘটনার জেরে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শীর্ষ নেতাদের একাংশের কেন্দ্র ও জেলার পর্যায়ে পদধারীদের বেশিরভাগই এখন কারাগারে। বাকিরা আছেন আত্মগোপনে। অন্যদিকে অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে জ্বালাও-পোড়াও দলটিকে নতুন করে ইমেজ সংকটে ফেলছে। এ অবস্থায় চলমান আন্দোলনের যৌক্তিক পরিণতি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে দলীয় রাজনীতি এবং জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে খোদ বিএনপির অভ্যন্তরেই নানামুখী গুঞ্জন চলছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, এ মুহূর্তে পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা কারাগারে থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের সমঝোতা প্রক্রিয়া চলছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরেশোরে আলোচনা চলছে। আবার নেতাদের কারাগারে রেখে বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না—সেই সংশয়ও ব্যক্ত করছেন অনেক নেতাকর্মী। এ ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না গেলে কোনো কোনো নেতা দলবদল করে প্রার্থী হতে পারেন—পুরোনো এই গুঞ্জন এখন আরও বেশি ডালপালা মেলেছে।

অবশ্য সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শিগগিরই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে ভাঙার নানা তৎপরতা চলছিল। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এবং বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এই তৎপরতা এখন জোরালো হয়েছে। চাপে ফেলে নির্বাচনে আনতে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের হিসাবে, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের আগে-পরে এ পর্যন্ত ১৪৮টির বেশি মামলায় প্রায় ৯ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও রয়েছেন।

বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলছেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সরকারের ওপর বিদেশি চাপ অব্যাহত রয়েছে। তাই চূড়ান্ত আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে পর্দার অন্তরালে নানা ধরনের তৎপরতা চলছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সেটা আরও জোরালো হয়েছে। কিছু নেতাকে বিএনপির বিকল্প বানিয়ে নির্বাচনে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাদ দিয়েও বিএনপিকে নির্বাচনে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাজনীতিতে গুঞ্জন রয়েছে, কারাগারে তাদের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। সমঝোতায় আসতে তাদের ওপর চাপও সৃষ্টি করা হতে পারে।

তবে বিএনপির কট্টরপন্থিরা এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের দাবি, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ, সুসংগঠিত। যতই চাপ প্রয়োগ করা হোক, কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না। শীর্ষ নেতৃত্বকে মাইনাস করে তারা কোনো নির্বাচনে যাবেন না। সুতরাং সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে বলে আশা তাদের।

এদিকে বিএনপি নির্বাচনে না এলে ওই দলের অনেক নেতা প্রার্থী হবেন—গত সোমবার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্য নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। তথ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরপরই বুধবার তৃণমূল বিএনপির পক্ষ থেকে এক যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় গুঞ্জন আরও বেড়েছে। বিএনপি থেকে কেউ তৃণমূলে যোগদান করছেন কি না, যোগদান করলে তারা কারা—হঠাৎ করেই এসব আলোচনা সামনে চলে এসেছে। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন বিএনপির সাবেক দুই নেতা শমসের মবিন চৌধুরী ও তৈমূর আলম খন্দকার।

অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নতুন দল গড়ছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার মন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত। বিএনপি নির্বাচনে গেলে আমি সেই নির্বাচনে অংশ নেব। রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমি দেখছি। এর বেশি কিছু এখন বলব না।’

হাফিজ উদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্যে কোনো কিছুই স্পষ্ট না হলেও তাকে নিয়ে গুঞ্জন আরও বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অবশ্য সরকারবিরোধী চূড়ান্ত ধাপের আন্দোলনের মধ্যে বিএনপির কেউ দলত্যাগ করবে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নুরুল আমিন বেপারী। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিএনপি থেকে গত ১৫ বছরে বড় কোনো নেতা বের হয়ে যাননি কিংবা অন্য কোনো দলে যোগদান করেননি অথবা এমন কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত নেননি যেটা বিএনপির জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হবে। মেজর (অব.) হাফিজসহ কয়েকজনের নাম অনেক আগে থেকেই শোনা গিয়েছিল। তারা হয়তো বা অন্য একটি পার্টি তৈরি করে ওই পার্টির মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এ জন্য তৃণমূল বিএনপি এবং বিএনএম নামে দুটি পার্টি তৈরি করা হয়েছে। মেজর হাফিজকে নিয়ে অনেক আগে থেকেই আলোচনা আছে। তিনি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। শেষবেলায় এসে এটা করলে তা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপির আন্দোলন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে গায়ে আগুন দিলেন মার্কিন সেনা

আজ বইমেলা শুরুর সময় পরিবর্তন

ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৮

লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় ট্রলিচালক নিহত

ত্রিশালে সরিষা চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

কুমিল্লায় লালমাই-ময়নামতি যেন প্রত্নসম্পদের ভান্ডার

মঙ্গলবার জাতীয় বস্ত্র দিবস- ২০২৩ উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ / ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার গুঞ্জন, নেতৃত্বের দৌড়ে অছাত্ররাও

মোঘল স্থাপত্য : বজরা শাহী মসজিদ

১০

৩১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা হারিয়েছে জেলেনস্কি

১১

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা

১২

যবিপ্রবির ৩ প্রশাসনিক পদে রদবদল

১৩

জ্বর থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে ভুলেও খাবেন না এসব খাবার

১৪

ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

১৫

অবশেষে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন সফল

১৬

রংপুরে ৫ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

১৭

পোস্তগোলা সেতু পুরোদমে বন্ধ

১৮

তিস্তার চরে চাষ করা ফসলের বাম্পার ফলন

১৯

নিয়োগ দিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ, বেতন ৬৭ হাজার

২০
X