তাহমিদুল হাসান আকন্দ
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:০১ এএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:০৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

জেলা শহরে নেওয়া হোক সরকারি চাকরির পরীক্ষা

জেলা শহরে নেওয়া হোক সরকারি চাকরির পরীক্ষা

বেকারদের একটি বড় অংশ স্নাতক, স্নাতকোত্তর শেষ করে সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ সরকারি বা বেসরকারি চাকরি পরীক্ষা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায়, তা বোঝা দাঁড়িয়েছে বেকারদের জন্য।

ঢাকাকেন্দ্রিক সরকারি বা বেসরকারি চাকরির পরীক্ষা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষজন। সেসব মানুষ সারা রাত যাতায়াত করে ঢাকায় আসেন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু ঢাকা এসে মুখোমুখি হতে হয় বিভিন্ন সমস্যার। দুষ্কর হয়ে পড়ে পরীক্ষার কেন্দ্র খুঁজে বের করা। এ ছাড়াও যাতায়াতের সমস্যা তো আছেই।

চাকরির পরীক্ষা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় ঢাকার বাইরে থেকে আসা প্রার্থীদের লম্বা একটা সময় যাতায়াত করে আসতে হয়। এতে তারা যেমন শারীরিকভাবে ক্লান্ত হচ্ছে; ঠিক তেমনি যাতায়াত ভাড়া হিসেবে অনেক টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। বেশিরভাগ চাকরিপ্রার্থীরা বেকার হওয়ায় এই ব্যয় ভার বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।

বর্তমান বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে জনবহুল এবং যানজটে জর্জরিত শহরের মধ্যে অন্যতম শহর ঢাকা। ঢাকাকেন্দ্রিক চাকরির পরীক্ষায় নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে নারী চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য। নিরাপত্তার অভাবের জন্য অভিভাবকরা নারী প্রার্থীদের ঢাকায় আসতে দিতে চায় না। ফলস্বরূপ অংশগ্রহণ করতে পারছেন না নারীরা। প্রায়ই সময় শোনা যাচ্ছে রাস্তায় ডাকাতি, চুরি, হাইজ্যাকের মতো ঘটনা। এতে মৃত্যুর ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় চাকরি পরীক্ষায় আবেদন করেও অংশগ্রহণ করতে পারছেন না চাকরিপ্রত্যাশীরা।

সরকারি চাকরির পরীক্ষা জেলা শহরে আয়োজন করার দাবি একটি যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী দাবি। এতে চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থানরত শিক্ষিত বেকার যুবকদের দুর্দশাও ঘুচবে। স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোয় অংশ নিতে পারবে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষিত নারী এবং পুরুষরা। চাকরির পরীক্ষা দিতে বেগ পোহাতে হবে না কাউকে। এটি দেশের প্রতিটি অঞ্চলের প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং তাদের ওপর অর্থনৈতিক, শারীরিক ও মানসিক চাপ কমাবে। তাই, সরকারের উচিত এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এতে করে শুধু চাকরিপ্রার্থীদের জন্যই নয়; বরং দেশটির সার্বিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

তাহমিদুল হাসান আকন্দ

শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ

সরকারি তিতুমীর কলেজ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগামীর জন্য বিনিয়োগ : সিঙ্গার বাংলাদেশের নতুন যুগ

মদিনায় ২১ লাখ বৃক্ষরোপণ করল সৌদি সরকার

এবার নিশিরাতে নির্বাচন করতে দেব না : তারেক রহমান

ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার, গৃহকর্মী পলাতক

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ : হাবিব

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’

পিটিয়ে মানুষ হত্যাকারীদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয় : গোলাম পরওয়ার

প্রেমিক বিবাহিত, সন্তানও আছে! গোপন তথ্য ফাঁস করল চ্যাটজিপিটি

টেলিগ্রামে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারকারী গ্রেপ্তার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

১০

নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তি খাতে বছরে ৪০ হাজার কর্মীর চাহিদা, সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

১১

ইরানে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আজারবাইজান

১২

‘বি’ ইউনিটের মাধ্যমে শেষ জবির ভর্তি পরীক্ষা

১৩

ক্ষমতার রাজনীতি করতে আসিনি : মান্নান

১৪

ঘুম থেকে উঠে মানুষ নাম নেয় আল্লাহর, একজন নেন আমার : মির্জা আব্বাস

১৫

প্যারাডাইস ল্যান্ডের ‘আশুলিয়া আরবান সিটি’র শুভ উদ্বোধন

১৬

নিজের ছাড়া অন্যের ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না : জামায়াত আমির

১৭

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই সরকারি বাসা ছেড়েছি : আসিফ মাহমুদ

১৮

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমির ১৪তম ব্যাচের পাসিং আউট অনুষ্ঠিত

১৯

কোনো ট্রিটমেন্ট ছাড়াই ত্বক উজ্জ্বল রাখতে যা খাবেন

২০
X