রিয়াদ হোসেন, শিক্ষার্থী
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২০ জুন ২০২৫, ০৭:৩৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চারদিক

উপকূলে কৃষি উৎপাদন কমছে কেন

উপকূলে কৃষি উৎপাদন কমছে কেন

সম্ভাবনাময় উপকূলে সংকট এখন যেন আর পিছু ছাড়ে না। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ। প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জনজীবন হুমকির মুখে পড়ছে। এদিকে বন্যপ্রাণী নিধন, অবৈধভাবে মাছ শিকারসহ নানা কারণে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতিও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়-ঝঞ্ঝায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিধ্বস্তপ্রায় এসব জনপদে প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে একদিকে যেমন মানুষের উদ্বাস্তু হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে কৃষি উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানিতে বঙ্গোপসাগর থেকে লবণ পানি এসে মিশছে। যে লবণ পানির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়। ফলে সেখানে কৃষিজ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। একসময় এসব উপকূলীয় জনপদে প্রচুর ধান চাষ হতো। কিন্তু দিন দিন মাটিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব অঞ্চলে শুধু আমন ধান উৎপাদন হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টি পানির অভাবে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আগের মতো ধানের উৎপাদন বাড়ছে না এবং কৃষকরা ধান চষে লাভবান হচ্ছেন না। এতে তাদের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং এসব অঞ্চলে খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে উপকূলে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে, সেদিন আর বেশি দূরে নয়। এজন্য সরকারকে উপকূলীয় জনপদ রক্ষা করতে এখনই সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ দেশের প্রায় ২৮ শতাংশ মানুষ উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করে। যারা বছরের পুরো সময় জুড়ে কোনো না কোনো সমস্যা, সংকট মোকাবিলা করে এখানে জীবনযাপন করে আসছে। প্রতি বছরের বর্ষা মৌসুমে উপকূলের বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় শত শত বিঘা ফসলি জমি। ভেসে যায় মৎস্য ঘের। পানিতে ডুবে থাকে কৃষকের ধান বা অন্যান্য ফসল। এজন্য ধান চাষ কিংবা শাকসবজি আবাদ করার আগে কৃষকদের এখন ভাবতে হয় যে, এ ফসল ঘরে উঠতে কতদিন লেগে যাবে। এর ওপর নির্ভর করে তারা এখন চাষাবাদ করে থাকেন। কারণ, উপকূলে বর্ষা মৌসুমও আসবে, সঙ্গে দুর্যোগও হানা দেবে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন রক্ষা করবে নাকি ফসল ঘরে তুলবে, তা নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায় তাদের। লবণাক্ততা বাড়ার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় কৃষির ক্ষতির পাশাপাশি লবণ পানিতে চাষাবাদ করায় স্থানীয়রা উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেমন এখানকার জমিতে লবণের পরিমাণ বাড়ছে; অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষের ফলে তা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে তুলেছে। চিংড়ি চাষের জন্য অনেকে বেড়িবাঁধ কেটে ঘের এলাকায় লবণ পানি তুলছে। ফলে জমিতে লবণ স্থায়ীভাবে জমে যাচ্ছে। এতে গুটিকয়েক চিংড়িচাষি লাভবান হলেও এ জনপদের বেশিরভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অঞ্চলে আগে যেমন বাড়ির আঙিনায় পারিবারিকভাবে শাকসবজি চাষ করা হতো, এখন মিষ্টি পানির অভাবে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খাদ্য ঘাটতি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে প্রতি বছর ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে গড়ে হেক্টরপ্রতি সাড়ে তিন টন করে। লবণাক্ততা বাড়তে থাকলে কৃষি আয় বছরে ২১ শতাংশ কমে যাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ৪০ শতাংশ কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়বে। এতে সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে, এভাবে কৃষিজমি লবণাক্ততায় তলিয়ে গেলে উপকূলের অর্থনীতিতেও মারাত্মক সংকট দেখা দেবে। আম, কাঁঠাল, পেয়ারাসহ এ জাতীয় গাছগুলোতে এখন আর তেমন ফল হতে দেখা যায় না। এ লবণাক্ততার কারণে উপকূলের গাছপালাও অধিকাংশ মৃতপ্রায়। লবণের পরিমাণ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন কোনো গাছ লাগালেও তা মারা যাচ্ছে। এজন্য উপকূলীয় জনপদে লবণের পরিমাণ যাতে অতিমাত্রায় বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বেড়িবাঁধ কেটে যাতে লবণ পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ করতে না পারে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত ফসলের বীজ এবং ফলগাছ নির্বাচন করে আধুনিক নিয়ম মেনে চাষ করতে পারলে হয়তো উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি লবণাক্ততাসহিষ্ণু শাকসবজি ও ফলের জাত উদ্ভাবনে সুপরিকল্পিতভাবে গবেষণা কার্যক্রম করতে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। আমরা আশা রাখি, সরকার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ বাঁচিয়ে রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

রিয়াদ হোসেন, শিক্ষার্থী

সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাকসু নির্বাচন / নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান

ভাতে ক্যানসারের ঝুঁকি! নতুন গবেষণার তথ্য জানুন

ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নুরের সবশেষ অবস্থা জানালেন চিকিৎসক

নুরের খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি

গ্রামবাংলার জনপ্রিয় হাডুডু খেলা দেখতে মানুষের ঢল

দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ নিহত ২

সমালোচনার শিকার পাকিস্তানি অভিনেত্রী

ডাকসু নির্বাচনে ফরহাদের জিএস প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

১২ বলে ১১ ছক্কা হাঁকালো, শেষ ওভারে এলো ৪০ রান

১০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত

১১

ব্যাংকে গরুর মাংস খাওয়া নিষেধ, প্রতিবাদে কর্মীদের ‘পার্টি’

১২

ব্যাংকিং টিপস / ঋণ নেওয়ার আগে যেসব চিন্তাভাবনা জরুরি

১৩

বাংলা সিনেমায় মুগ্ধ অনুপম খের

১৪

ফের ছোট পর্দায় ফিরছেন মধুমিতা

১৫

প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট ঔষধি নিম

১৬

বিসিবির নির্বাচন জিতলে কী কী পদক্ষেপ নেবেন, জানালেন তামিম

১৭

৫০০ সাংবাদিককে ছাঁটাই করছে ট্রাম্প প্রশাসন

১৮

ধূমপানের ক্রেভিং কমাতে সাহায্য করে যে ফল

১৯

‘ফ্যাসিস্টদের দৃশ্যমান বিচার ছাড়া নির্বাচন উৎসবমুখর হবে না’

২০
X