কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াদা রক্ষার ওয়াদা কই

মোস্তফা কামাল
ওয়াদা রক্ষার ওয়াদা কই

গত তিন-চার মেয়াদের নির্বাচনে তেমন ওয়াদা করতে হয়নি। তা লাগেনি। ভোট না দিলেও নির্বাচন হয়ে যাবে বা গদিনশীনরাই আছেন-থাকবেন, এমন বাস্তবতায় ওয়াদার দরকারও হয়নি। এবার প্রেক্ষাপটের ভিন্নতায় ভোট চাইতে হচ্ছে। যেতে হচ্ছে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। দিতে হচ্ছে ওয়াদা। নির্বাচনী ইশতেহারের বাইরেও ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে নানা ওয়াদায়। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজের প্রতি জনগণের সহানুভূতি ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছেন। আসনভিত্তিক প্রচারণায় প্রার্থীরা তো প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। যা দাবি নেই, দরকার নেই বা দেওয়া সম্ভবও নয়, তাও দেওয়া হচ্ছে। চব্বিশের গণআন্দোলন-পরবর্তী নতুন এক স্বপ্নের পাটাতনে বাংলাদেশ। এর সমান্তরালে আরেক বাস্তবতা হচ্ছে, মিথ্যা-অবাস্তব প্রতিশ্রুতি মানুষ বিশ্বাস করবে কি না, তা ভাবার সময় নেই।

এমনিতেই বায়বীয় কথা বেশি বলার অভ্যাসের সমান্তরালে আজগুবি কথায় কান দেওয়ার অভ্যাসও অনেকের বৈশিষ্ট্য। নিজে ভালো করে জানে, কথাগুলো বায়বীয়, তারপরও বলে। আবার শ্রোতাকুলও জানে ওয়াদাগুলো অবাস্তব-অবান্তর, তারপরও শোনে। নিজেরাও বলাবলি করে, নেতাদের কথায় বিশ্বাস নেই। আবার নেতাদের কথার ফুলঝুরি না থাকলে তাদের আনস্মার্ট ভাবে। এর জেরে ক্ষমতায় যাওয়ার পর নেতাদের ওয়াদার কথা মনে রাখতে হয় না। ওয়াদা শ্রবণকারীদেরও সব মনে থাকে না। এবার প্রতিশ্রুতির সমান্তরালে দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বোমাও বেশ বেগবান। জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচন এলে প্রার্থীদের ছুটে বেড়ানো অন্যতম একটি নির্বাচনী কাজ। এ রোড টু ভোটে তাদের সবচেয়ে নিম্ন-আয়ের মানুষটির দুয়ারে যেতেও শরম লাগছে না। তার ময়লা শরীর জড়িয়েও ধরছেন। নোংরা পরিবেশে বসে খাবার ভাগাভাগি করছেন। কী এক বৈচিত্র্যময় দৃশ্য। ভোটারের সঙ্গে প্রার্থীর এমনভাবে দাঁড়ানো, মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য অন্তত দেখতে ভালোই লাগছে। প্রশ্ন জাগছে, প্রার্থীদের কি এবার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দিকে খেয়াল করতে হবে? না মুখের কথা মুখেই থাকবে বা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে? ভোটের ক্ষণগণনার এ সন্ধিক্ষণে রাজনৈতিক দলগুলো এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

প্রচারণা শুরুর পর থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে পৃথকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলগুলোর শীর্ষনেতারা। এর মধ্যে বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড এবং জামায়াতের ধর্মের ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টি বেশি আলোচনায় এসেছে। ইশতেহার ভালো ভালো কথায় ভরপুর। নির্বাচিত হলে জনগণ এবং দেশের কল্যাণে কী করবে, কতটা করবে, এসবের কথা অত্যন্ত মার্জিত ও মনকাড়া। ইশতেহার ভোটারের সঙ্গে দলের ও প্রার্থীর এক ধরনের চুক্তিনামা। এখন সেসব আশ্বাস কিংবা প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে, বিশ্বাস স্থাপন করে ভোটার তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন কি করবেন না, সেই সিদ্ধান্ত ভোটারদের। দলগুলো বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বেশিরভাগ দলেরই নেই। তাদের দেওয়া ওয়াদায় মানুষের প্রত্যাশায় কিছু টোকা যে পড়েনি বা আশাবাদ জাগেনি—এমনও নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এমনকি রাজস্ব নিয়ে আলাদা-আলাদা প্রতিশ্রুতি থাকলেও এগুলো বাস্তবায়নের কোনো কাঠামো নেই। বিএনপি বলেছে, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির পাঁচ ভাগ বরাদ্দ দেবে। জামায়াত সঙ্গে সঙ্গে বলেছে আমরা ছয় থেকে আটভাগ বরাদ্দ দেব। কিন্তু কোথা থেকে এ টাকা আনবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলেনি। দুই দল ও জোটপ্রধানদের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান, ধর্মীয় নেতাদের সেবাসহ নানা বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া নতুন করে খাল খনন, অপরাধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। যানজট নিরসনে ঢাকার বাইরে ‘স্যাটেলাইট শহর’, শিশুদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা, প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে মনোরেল স্থাপন, বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন, ভূমিহীনদের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা, ব্লক বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, যুবক ও বেকারদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ আরও নানা পরিকল্পনাও জানিয়েছে বিএনপি।

অন্যদিকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। দলটি বলছে, বেকারদের শুধু বেকার ভাতা নয়, দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বড় শহরগুলোয় ইভিনিং বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বন্ধ কলকারখানা চালু করার পাশাপাশি নতুন করে ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনসহ আরও বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। প্রতিশ্রুতিতে পিছিয়ে নেই এনসিপিও। নতুন গঠিত এই দলটিও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ, নতুন শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া গ্রাম সংসদ এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য শস্যবীমা, কৃষি ভর্তুকি এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি সংস্কার ও স্থায়ী লেবার কমিশন গঠন করা হবে জানিয়েছে দলটি। জনকল্যাণে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষানীতিতে গবেষণার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেছে। দলটি জানিয়েছে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে।

দলগুলোর সব ওয়াদা মানুষ ভুলে যাবে মনে করার কারণ নেই। এবারের নির্বাচনে পোড়খাওয়া মাঠের রাজনীতিবিদ ছাড়াও আরও অনেকেই লড়ছেন। তারা নানাভাবে সমাজের আলোচিত ও প্রশংসিত ব্যক্তি। এবারের ভোটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যার তরুণ প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থীও অনেক।

এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের বহুল প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটার প্রতীক্ষায় সবাই। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছিল, তাদের বড় অংশ এবার ভোটার। এমনিতেও গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় এটাই অনেকের প্রথম নির্বাচন। সবাই রাত-দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন। জনসভাগুলোতে লাখো মানুষের উপস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ও সমর্থনের কথা জানান দিচ্ছে। এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছে। নিশানা করে ছুড়ছে মারাত্মক অভিযোগসহ শব্দবোমা। পাল্টাপাল্টি হুমকিও কম নয়।

জামায়াতের বিরুদ্ধে ধর্মের ব্যবহার তথা বেহেশতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ বেশ আলোচিত। নির্বাচনী মাঠে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি এ ধরনের প্রতিশ্রুতি ও বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, বেহেশতের টিকিট মানুষ দিতে পারে না, একমাত্র আল্লাহ দিতে পারেন। এর বিপরীতে নির্বাচনী বক্তব্যে তারেক রহমান এবং বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের কার্ড খেলছে বলেও আলোচনায় স্থান পায়। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল সম্পর্কে নতুন করে জানার নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময়ই তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষ জেনেছে। এ ছাড়া বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের দুর্নীতির অভিযোগ তোলার বিষয়টিও দুই দলে বেশ জমেছে। জামায়াতের আমির বলেছেন, একটি দল দুর্নীতিতে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এর জবাবে তারেক রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, পুরো পাঁচ বছর দলটির দুজন মন্ত্রী সরকারে থাকলেও তারা তখন পদত্যাগ করেননি কেন? এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান দলটির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, একটি দল স্বৈরাচারের ভাষা ব্যবহার করছে। এর বাইরে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা বেশ আলোচিত-সমালোচিত হয়। ওই ঘটনার পর আঘাত হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

অভিযোগ আর অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই অতিরঞ্জন করা হয়। জনতুষ্টিমূলক অনেক প্রতিশ্রুতি মানুষের বাহবা কুড়ায় সত্য। অভিযোগেও কখনো কখনো মাঠে বাড়তি হাইপ আনে। এ কথাও মনে রাখা দরকার, অতীতে মানুষ যে ধরনের প্রতিশ্রুতি শুনে আসছে, তাতে এমনিতেই রাজনীতিকদের ওপর এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। কারণ, সেসব প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত বাগাড়ম্বরে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনীতিকরা জনসেবার কথা বললেও অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জয়লাভের পর প্রার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা বদলে গেছে। কিন্তু ভোটারদের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। বাস্তবে বেকারত্ব আরও বেড়েছে এবং প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে নানা প্রকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মানুষ তার সুফল পায়নি। দ্রব্যমূল্যের নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি পেলেও মানুষ তার তেমন সুফল পায়নি। বাজারের অস্থিতিশীলতায় মানুষ এখনো নাজেহাল। পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও প্রতিশ্রুতি মানুষকে আশাবাদী করেছে। আবার রাতারাতি যে অনেক কিছু বদলে যাবে, সেই আশাও সবাই করে না।

তাই বাড়িয়ে, ফুলিয়ে মানুষকে সামর্থ্যের বাইরে প্রতিশ্রুতি জরুরি নয়। একজন এমপি বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা অসীম নয়। তিনি এককভাবে চাইলেও বড় শিল্প-কারখানা গড়তে পারেন না; জাতীয় পর্যায়ের বেকারত্ব দূর করতে পারেন না বা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বদলে দিতে পারেন না। তবে, পথরেখার নিশানা দিতে পারেন। আর সেটাই হবে ওয়াদা রক্ষার ওয়াদা।

লেখক: কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসলামের প্রায়োগিক বিধান জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে : ইবি ভিসি

দীর্ঘদিন পর পাবনায় ফিরলেন গুমের শিকার সাবেক ছাত্রদল নেতা তুষার

৪০ বছর ইমামতির পর রাজকীয় বিদায়

চ্যাম্পিয়ন হওয়াই বাংলাদেশের লক্ষ্য 

নানা কৌশলে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা চলছে : নাহিদ

চিকিৎসা শেষে আবারও জেলে ফিরলেন ইমরান খান

বিএনপি-জামায়াতের তুমুল সংঘর্ষ

সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা, কবে চালু হবে?

রেলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিল রেলপথ মন্ত্রণালয়

এবারের নির্বাচনে পরিবর্তন চেয়েছে মানুষ : গোলাম পরওয়ার

১০

কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে চাই : আবু আশফাক

১১

উৎপাদন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন দিগন্তে ইসিএল

১২

বাণিজ্য মেলায় ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি

১৩

সব ধর্মের মানুষ প্রাপ্য অধিকার পাবে : জামায়াত আমির

১৪

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে : এ্যানি

১৫

স্বর্ণের দাম কমছে যে কারণে  

১৬

প্রিন্স মাহমুদ সুরকার / ‘পুরস্কার পাওয়াটা চমকের মতো লাগছে’

১৭

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল ২ জনের

১৮

বিবিসি বিশ্লেষণ / জাইমা রহমানকে সামনে আনা বিএনপির কৌশলগত বদল

১৯

ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমাকে আইনি নোটিশ

২০
X