

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দবির উদ্দিন তুষার দীর্ঘদিন পর নিজ জেলা পাবনার সুজানগরে ফিরেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান।
এলাকায় ফিরে দবির উদ্দিন তুষার অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই শেখ হাসিনা সরকারের সময় রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। আট দিন গুম করে রেখে একটি টর্চার সেলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
তুষার জানান, সে সময় সংশ্লিষ্ট থানাগুলো তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। পরবর্তীতে ১ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে অংশ নিতেই মূলত তার এই পাবনা সফর। শুক্রবার বিকেলে বেড়া সিঅ্যান্ডবি মোড়, কাশিনাথপুর ও চিনাখড়া বাজারে তিনি ধারাবাহিক পথসভা ও গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
দবির উদ্দিন তুষার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার পরিবার পাবনা অঞ্চলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘকাল জড়িত। তার বাবা মরহুম ঈমান আলী খান ও চাচা মরহুম ইয়াজ উদ্দিন খান স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পারিবারিক এই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কারণেই তাকে বিভিন্ন মামলা ও রোষানলের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তার সহকর্মীরা।
শুক্রবার বিকেলে চিনাখড়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে দুলাই ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে একটি সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মো. হাবিবুর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সভায় বক্তারা গুম-নির্যাতনের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন