আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:১৬ এএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:২১ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সময় কাটে আড্ডা-গল্পে কাজ নেই কর্মকর্তাদের

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর
সময় কাটে আড্ডা-গল্পে কাজ নেই কর্মকর্তাদের

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) প্রধান কাজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন হলেও তিন মাস ধরে তা বন্ধ। এতে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক-প্রশাসনিক দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়ম খতিয়ে দেখা এবং জাল সনদ যাচাইয়ের কাজও হচ্ছে না। কাজ না থাকায় অফিসে এসে চা-নাশতা খাওয়া আর গল্প-আড্ডাতেই সময় কাটছে কর্মকর্তাদের। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে অধিদপ্তরে নতুন পরিচালক পদায়ন করা হয়েছে, ডিআইএ সংস্কারে নেওয়া হয়েছে বেশকিছু উদ্যোগও। তবে ফেব্রুয়ারির প্রায় মাঝামাঝিতে এসেও অধিদপ্তরের কাজে গতি ফেরেনি। এমন পরিস্থিতিতে পরিচালক বলছেন, চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পরিদর্শনের কাজ পুরোদমে শুরু হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরও ঢেলে সাজানো হয়। আগস্টের শেষদিকে পরিচালক করা হয় অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশিরকে। কিন্তু আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ায় তিন মাস না যেতেই গত নভেম্বরে তাকে ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়। এরপর পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় অধ্যাপক মো. মোজাক্কার হোসেন চৌধুরীকে। তিনি সে সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ফিন্যান্স ও প্রকিউরমেন্ট পরিচালক ছিলেন। পরে গত ডিসেম্বরে পরিচালক হিসেবে পদায়ন পান জয়পুরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গত ১১ নভেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শন ও অডিটে গিয়ে ছাত্র-জনতার মারধরের শিকার হন ডিআইএর সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মনিরুল আলম মাসুম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ঘুষ চেয়েছিলেন। এরপর ১০ বছর ধরে ডিআইএতে থাকা মাসুমকে গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে নরসিংদী সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। মাসুমের ওই ঘটনার পরই বন্ধ হয়ে যায় ডিআইএর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কার্যক্রম, যা এখনো শুরু করা যায়নি।

সম্প্রতি সরেজমিন শিক্ষা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডিআইএ কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন শিক্ষা পরিদর্শক অধিদপ্তরের কনফারেন্স কক্ষে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। কয়েকজন মোবাইলে ভিডিও দেখছেন। আরও কয়েকজন চা খেতে বাইরে গেছেন। কর্মকর্তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই তারা এভাবে ৯টা-৫টা অফিসে বসে থাকেন, এরপর বাসায় চলে যান।

এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান কাজ পরিদর্শন করা। সেটি গত নভেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে আছে। কী কারণে বন্ধ হয়ে আছে আমরা জানি না। কবে নাগাদ পরিদর্শনের কাজ শুরু হবে, তাও বলতে পারব না। এভাবে কর্মহীন হয়ে শুধু অফিসে আসা, গল্প করা, আর বাসায় ফেরার মধ্যে কোনো আনন্দ পাই না।’

জানা গেছে, ডিআইএতে কর্মরত আছেন ৩৫ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে পরিচালক, যুগ্ম পরিচালক ও উপপরিচালক মোট ৬ জন। তাদের বসার জন্য আলাদা চেয়ার ও ডেস্ক থাকলেও শিক্ষা পরিদর্শকদের কোনো ডেস্ক বা চেয়ার নেই। এ কারণে তাদের অনেকেই কনফারেন্স কক্ষে বসেন। বাকিরা এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরির মধ্যে থাকেন। আবার এ কার্যালয়ে কাগজপত্র রাখার মতো আসবাবপত্র কম, জায়গাও তেমন নেই। তাই কক্ষের বাইরে, আলমারির ওপরে-নিচে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। এসব কারণে একই ভবনের নিচতলায় মাউশির স্টোর রুম অন্যত্র সরিয়ে সেখানে কর্মকর্তাদের বসার ব্যবস্থা করছে ডিআইএ।

অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, কার্যালয়ের কিছু সংস্কার শেষে কর্মকর্তাদের বসার জায়গা নিশ্চিতের কাজ চলমান রয়েছে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের কাজ শুরু হতে পারে। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেও ডিআইএ বদ্ধপরিকর বলে জানান তারা।

ডিআইএর যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক খন্দকার মাহফুজুল আলম কালবেলাকে বলেন, ‘বিগত সময়ে যেসব অভিযোগ উঠেছিল, আমরা তেমনটি চাই না। এখানে ফাইলের পর ফাইল জমা পড়ে থাকত। সেটি আর থাকবে না। আমরা কাজের মধ্যে গতিশীলতা আনতে যা করণীয় তাই করব। নিচতলায় ডিআইএ ভবনের কাজ বর্ধিত করা গেলে ফাইলপত্র নিয়ে সমস্যা কমবে, কাজেও গতি বাড়বে।’

ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হলে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন, সেশন ফিসহ অন্যান্য ফি সোনালি সেবা বা অন্য কোনো পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে নিলে দুর্নীতি অনেকাংশেই কমে যাবে। আমরা তেমন প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দিয়েছি। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে ঢোকার জন্য অসম প্রতিযোগিতা কমে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, শিক্ষাবিদসহ নেতৃস্থানীয় শিক্ষিত ব্যক্তিদের কমিটিতে আনা গেলে অনেক সমস্যাই আর থাকবে না।’

পরিদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে বেশিরভাগই নতুন। সেজন্য তাদের প্রশিক্ষিত করতে চাই। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পরিদর্শনের কাজ শুরু করার চেষ্টা আছে আমাদের, যাতে মার্চে রোজার মধ্যে হলেও রিপোর্ট জমা দেওয়া যায়।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নজর কেড়েছে জেএমজি ফার্নিচার

তারেক রহমানের সহধর্মিণীকে ছবি দেখাচ্ছেন জুলাই শহীদের মা 

ফের বিশ্ব মঞ্চে ফিরছে বিটিএস

ছাত্রদলের নির্বাচন অফিস ঘেরাও নিয়ে শিবির সেক্রেটারির স্ট্যাটাস

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব দেখা যাচ্ছে এখনই

ইসির কাঠগড়ায় দ্বৈত নাগরিকত্ব

আর্টেমিস-২ মিশন / ৫০ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাতে প্রস্তুত নাসা

পাম্পে শ্রমিক হত্যার অভিযোগ, ‘সুজন যুবদলের কেউ নয়’

আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

১০

গাজার জন্য গঠিত বোর্ড অব পিসে আমন্ত্রণ পেলেন যারা

১১

লামিন বনাম রিয়াল: স্পেন শিবিরে বাড়ছে অস্বস্তি

১২

রক্ত লাগলে রক্ত দেব: সারজিস

১৩

‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই যোদ্ধাদের দেখাশোনার জন্য বিশেষ বিভাগ খুলবে’

১৪

চবি ২৮ ব্যাচের ফুটবল উৎসব অনুষ্ঠিত

১৫

পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৬

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই শুরু বাংলাদেশের 

১৭

‘উদ্ভাসিত গোসাইরহাট ফাউন্ডেশন’-এর শীতবস্ত্র বিতরণ

১৮

এইচএসসি পাসেই আবুল খায়ের গ্রুপে বড় নিয়োগ

১৯

শীত আবার বাড়বে কি না জানাল আবহাওয়াবিদ

২০
X