হাসান আজাদ
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:১৪ এএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:২৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যটনে বিনিয়োগ হচ্ছে না

সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব
পর্যটনে বিনিয়োগ হচ্ছে না

বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ খাতে নেই কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা। অন্যান্য খাতে সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের রোডম্যাপ থাকলেও বরাবরের মতো উপেক্ষিত পর্যটন খাত। চার বছর আগে সরকার মহাপরিকল্পনা করার উদ্যোগ নিলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। এমনকি দেশের পর্যটন স্থানগুলোর সঠিক তালিকাও করা যায়নি। যে তালিকা করা হয়েছে তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এমন প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৩। দিবসটি উপলক্ষে দেশে এবারই প্রথম চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলার আয়োজন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এবারের প্রতিপাদ্যÑ‘পর্যটনে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ’।

বলা হচ্ছে, খাত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সামগ্রিক সমন্বিত পরিকল্পনার চেয়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিশেষ অঞ্চলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশি আগ্রহী। দেশের সব পর্যটন স্থান সমানভাবে গুরুত্ব না পাওয়ায় এ খাতে বড় বিনিয়োগ বা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হচ্ছেন না। এ খাতের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বছরব্যাপী বিভিন্ন পর্যটন স্থানের প্রচার করে গেলেও সরকারিভাবে তা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের পর্যটন খাতে এ পর্যন্ত যতটুকু উন্নয়ন ঘটেছে, এর বেশিরভাগই বেসরকারিভাবে। এ খাতে এখন পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগই সবচেয়ে বেশি।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন কালবেলাকে বলেন, পরিকল্পনা করেই আমরা এগুচ্ছি। মহাপরিকল্পনা শিগগির চূড়ান্ত হবে। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় দেশে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে দেশীয় পর্যটক। এ ছাড়া বিদেশি পর্যটকও বেড়েছে। পর্যটক বাড়াতে আমরা নানা কর্মসূচি নিয়েছি। বিদেশি পর্যটক বাড়াতে দুটি দেশের সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করেছি। কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটকের জন্য পৃথক জোন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছি। এসব বাস্তবায়ন হলে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান বাড়বে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৪০০ পর্যটন স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ২৮১টি স্থানে নিয়মিত পর্যটক যায় এবং ৫০টি পর্যটন স্থান ঘিরে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রতিবছর এসব পর্যটন স্থানে দেড় কোটি দেশি মানুষ আসে।

তবে দেশে ক্রমেই বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২২ সালে বিদেশি পর্যটক এসেছে ৫ লাখ এক হাজারের কিছু বেশি। ২০২১ সালে এসেছে এক লাখ ৩৫ হাজার ১৮৬ জন। ২০২০ সালে এসেছে এক লাখ ৮১ হাজার ৫১৮ জন। ২০১৯ সালে এসেছে ৬ লাখ ২১ হাজার ১৩১ জন (গত ১০ বছরে সর্বোচ্চ)। ২০১৮ সালে এসেছে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ জন এবং ২০১৭ সালে এসেছে ৫ লাখ ৬৬৫ জন।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত ট্যুর অপারেটরের সংখ্যা ৮৪৫টি। সংগঠনের বাইরেও রয়েছে আরও অনেক অপারেটর। সবমিলিয়ে দেশে ট্যুর অপারেটরের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।

উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৩ দশমিক ২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে তা ৮০ হাজার কোটি থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা। বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে জিডিপিতে অবদানও বাড়বে। এজন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও আকৃষ্ট করার মতো ব্যবস্থা। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি, থাকা-খাওয়ার ও ঘোরাফেরার খরচ যৌক্তিক হতে হবে। এজন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে পর্যটন খাতকে। এ ছাড়া এই খাতে বিনিয়োগে আর্কষণ করতে ভ্যাট ও ট্যাক্স মওকুফ বা ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দিতে হবে। তাহলে এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে মানুষ। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

টোয়াবের সভাপতি শিবলুল আজম কোরাশী এ প্রসঙ্গে কালবেলাকে বলেন, এবারের পর্যটন দিবসের বিষয় হচ্ছে সবুজকে সংরক্ষণ করে পর্যটনে বিনিয়োগ। এটা টেকসই হওয়া জরুরি। সম্ভাবনাময় এই শিল্পে বিনিয়োগ অপরিহার্য। ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন থেকে আমাদের দেশে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো। তবে ভ্যাট কমানো দরকার। কারণ আমাদের সব পর্যটন কেন্দ্র শহর এলাকার বাইরে। শহরের একটি হোটেল ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে পারলেও মফস্বলে সেটা সম্ভব না। তাই আমরা আরবান এরিয়ার বাইরে ভ্যাট ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছি। তবে এ খাতকে উন্নত করতে হলে বিনিয়োগ খুব জরুরি। এজন্য আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছি বিনিয়োগে ভ্যাট-ট্যাক্স তুলে নিতে।

প্রসঙ্গত, পর্যটন খাতের বিকাশের জন্য ২০১৯ সালের জুনে বিদেশি পরামর্শক সংস্থা আইপিই গ্লোবালের সঙ্গে মহাপরিকল্পনা তৈরির চুক্তি করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু হয়। একই বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু এখনো তা চূড়ান্ত করা যায়নি। যদিও ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে প্রায় ২৮ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, করোনা এবং অন্যান্য কারণে মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে আমরা থেমে নেই। ইতোমধ্যে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে টাঙ্গুয়ার হাওর, পদ্মা সেতু, সুন্দরবনের শরণখোলা, নওগাঁর পাহাড়পুর, নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ এলাকা পর্যটনবান্ধব করতে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ডিপিপি তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।

পর্যটন খাত বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার দেব বলেন, পর্যটন খাতে এখনো কিছু অপরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেগুলো বাদ দিলে আগের চেয়ে এ খাত এখন অনেক এগিয়েছে। আমাদের দরকার বেশি বেশি প্রচার। বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে বাংলাদেশের পেইজ খুলে পর্যটন নিয়ে প্রচার চালাতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নুরের খোঁজ নিলে আমান উল্লাহ আমান

ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে, টালবাহানা চলবে না : বাবলু

সংস্কার না হলে আমাদের পরিণতিও নুরের মতো হবে : হাসনাত

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে

২৮ বছর পর মা-বাবাকে ফিরে পেল সন্তান

মানুষের ভোট মানুষকে ফিরিয়ে দিতে চাই : টুকু

মাটি দিয়ে সাদাপাথর আড়ালের চেষ্টা, ৫০ হাজার ঘনফুট উদ্ধার

দুই হাজার ট্রেইনি কনস্টেবল নিয়োগ দিচ্ছে পুলিশ, কোন জেলায় কতজন নেবে

ছিনতাইকারীর হাতে রক্তাক্ত সাংবাদিক, আটকের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ

লন্ডনের রাস্তায় ভারতীয় ছাত্রীর কাণ্ড, ভিডিও ভাইরাল

১০

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পিএমআই বাংলাদেশের আয়োজন

১১

টানা ২ দফায় স্বর্ণের দাম কত বাড়ল?

১২

চাকসু নির্বাচন / ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক, পজিটিভ হলেই প্রার্থিতা বাতিল

১৩

এনআইডি সংশোধনের বাতিল হওয়া আবেদন পুনরায় করার সুযোগ

১৪

চায়ের দোকানদারদের মেধাবী সন্তানদের সম্মাননা দিল ‘নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড’

১৫

গণপিটুনিতে নিহত রূপলালের ছেলে এখন বাবার পেশায়

১৬

বাসর রাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নববধূ

১৭

নারীদের মধ্যে বাড়ছে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি, নেপথ্য কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞ

১৮

বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

১৯

ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে : উপদেষ্টা আসিফ

২০
X