হোগলা পাতা দিয়ে পাটি বুনছিলেন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চরকৃষ্ণপুর গ্রামের গৃহবধূরা। ঘরকন্নার পাশাপাশি হোগলা তৈরি করেন তারা। নদী পাড়ি দিয়ে চর থেকে হোগলা পাতা সংগ্রহ করেন। সেগুলো দিয়ে হোগলা বোনেন। এক একটি হোগলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দামে বিক্রি করেন।
৩নং আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়ের ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চরকৃষ্ণপুর গ্রামের ঘরে ঘরে মেয়ে-বউরা হোগলা বানিয়ে বিক্রি করেন।
এই গ্রামের গৃহবধূ মায়া রানী বলেন, এই হোগলাগুলো বানাতে আমাদের মেঘনা নদীর ওপারে চরে যেতে হয়। সেখান থেকে হোগলা পাতা সংগ্রহ করি। সেগুলো সুন্দরভাবে কেটেকুটে হোগলা বানানোর উপযুক্ত করি। সংসারের কাজের পর যে সময়টুকু পাই তখন বুনি। মাসে গড়ে ২ হাজার ২৫টি হোগলা বা শীতলপাটি তৈরি করতে পারি।
শিখা নামে আরেক গৃহবধূ বলেন, হোগলা পাতা সংগ্রহে কোনো টাকা লাগে না। শুধু চর এলাকায় গিয়ে ওগুলো কেটে ট্রলারে করে আনতে যা খরচ হয়। আর বাকিটা হচ্ছে পরিশ্রম। ঘরের কাজের পাশাপাশি হোগলা পাটি বুনি। বিক্রি করতে বাজারে যেতে হয় না। বেপারিরা বাড়ি থেকে নগদ টাকায় কিনে নিয়ে যান। একই কথা বললেন শ্রীমতি, উজ্জ্বলা নামের গৃহবধূরাও। তারা বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই হোগলা বানানোর প্রচলন রয়েছে। মূলত হোগলা পাতা সংগ্রহ করতে হয় হাইমচর, নীলকমল ও গাজীপুর ইউনিয়নের জেগে ওঠা চর থেকে। আমাদের এই কাজে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন সহায়তা করেন।
হাইমচরের চরকৃষ্ণপুর এলাকার হোগলা ক্রেতা লক্ষ্মীনারায়ণ ভক্তসহ বেপারি কাজে সংশ্লিষ্ট সুজন, আজিজ বেপারি, কুট্টি বেপারি ও অন্যরা বলেন, পরিশ্রম করলে স্বল্প পুঁজিতে যে লাভবান হওয়া যায়, গৃহবধূদের হোগলা তৈরির বিষয়টি এমনই এক উদাহরণ। আমরা যে দামে হোগলাগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্রয় করি, এর থেকে ২ হাজার ৩০ টাকা বেশি দামে এনে বিক্রি করছি। মূলত হোগলাগুলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মিলাদ মাহফিলের কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়। তাদের পাশে যদি প্রশাসন এগিয়ে আসে, তাহলে গৃহবধূরা আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাইমচরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা বলেন, আমাদের চরকৃষ্ণপুরের গৃহবধূদের হোগলা বানানো একটি ঐতিহ্যবাহী কাজ। হোগলা বানানোর কাজে গৃহবধূরাই শুধু নন, যে কোনো উদ্যোক্তাই আমাদের কাছে এলে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে তাদের সহযোগিতা করবে।