বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শেবাচিমের লাখ লাখ টাকার ইলেকট্রিক সামগ্রী পানির দরে বিক্রি

শেবাচিমের বিক্রি করা পুরোনো ইলেকট্রিক সামগ্রী। ছবি : কালবেলা
শেবাচিমের বিক্রি করা পুরোনো ইলেকট্রিক সামগ্রী। ছবি : কালবেলা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ বছরের পুরোনো কয়েক লাখ টাকার ইলেকট্রিক সামগ্রী নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি— পুরোনো হিসেবে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের এসব মালামাল ভাঙারি হিসেবে মাত্র ৪৩ হাজার ৪৭০ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে পুরোনো জেনারেটর, বৈদ্যুতিক পাখাসহ বিভিন্ন মালামাল।

এদিকে, শুধু নামমাত্র মূল্যে বিক্রিই নয়, নিলামের মালামালের পরিসংখ্যান নিয়েও রয়েছে রহস্য। গণপূর্ত থেকে মালামালের ছাড়পত্র দিলেও উল্লেখ করা হয়নি নিলামকৃত মালামালের সংখ্যা। এমনকি সোমবার দুপুর থেকে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতেই সরানো হয় এসব মালামাল।

গণপূর্ত বিভাগের মেডিকেল উপ-বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ নভেম্বর হাসপাতালের পুরোনো ইলেকট্রিক সামগ্রী বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগে। ৪৩ হাজার ৪৭০ টাকা দরে নিলাম পায় মেসার্স মাসুদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। গত ৭ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মালামাল বুঝে নেওয়ার চিঠি দেয় গণপূর্ত মেডিকেল ই-এম উপবিভাগ।

সোমবার কাউকে কিছু না জানিয়েই মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ই-ইম উপবিভাগ থেকে গণহারে মালামাল ট্রাক লোড করেন নগরীর হাটখোলা এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী শাহীন।

এদিকে দরপত্র আহ্বান থেকে মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে নিলামের মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ঠিকাদার অভিযোগ তুলেছেন, সম্পূর্ণ গুছ প্রক্রিয়ায় তড়িঘড়ি করে লাখ লাখ টাকা মূল্যের এসব মালামাল নামমাত্র নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার বিকেলে নিলামের মালামাল ট্রাকে লোড করেন হাটখোলার ভাঙারি ব্যবসায়ী শাহীন। তিনি দাবি করেন, সব মালামাল তিনি কিনেছেন। গণপূর্তের একটি ছাড়পত্র দেখালেও নিলামের মালামালের সংখ্যা উল্লেখ করা কোনো ছাড়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন তিনি।

এদিকে মালামাল বুঝে নেওয়ার সময় গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। এ সময় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে নিলামের মালামাল নেওয়ার বিষয়টি অবগত নন বলে দাবি করেন গণপূর্ত মেডিকেল ই-এম উপবিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব।

তিনি বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছভাবেই হয়েছে। তবে ঠিকাদার মালামাল বুঝে নিতে হলে অবশ্যই গণপূর্তের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার কথা। এমনকি ছাড়পত্রে মালামালের সংখ্যাও উল্লেখ থাকতে হবে। এসব না দেখেই তার কার্যালয়ের গোডাউন থেকে কীভাবে মালামাল ট্রাকে তোলা হলো সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি এসও মাহাবুবের কাছ থেকে।

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম কালবেলাকে বলেন, টেন্ডার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। তবে মালামাল বুঝে নেওয়ার সময় গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীল কারোর উপস্থিত থাকা উচিত ছিল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জ্যৈষ্ঠের শেষে বর্ষার আগমনী বার্তা

কাপ্তাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত তংচংগ্যা পরিবারকে প্রতিমন্ত্রী হেলালের আর্থিক সহায়তা

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর : সব ধরনের আয় করমুক্ত, থাকছে না ভ্যাটও

টেনিস টুর্নামেন্টে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন

বাজেট ২০২৬-২০২৭ / অর্থনীতির চালিকাশক্তি কৃষিতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বিএনপি নেতার মোটরসাইকেল চুরি করলেন আ.লীগ নেতা 

এক বছরের মধ্যে বাড়ি করতে পারবেন ঝিলমিল প্রকল্পের গ্রাহকরা: গণপূর্তমন্ত্রী

চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফের সঙ্গে বিএনপি নেতা হুদার বৈঠক

এমন প্রশ্ন করবেন না, বিদ্যুৎমন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করেননি : স্পিকার

১০

বিবিসির বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে যারা

১১

বিশ্বকাপ জার্সিতে আরেক দেশের পতাকা, নেপথ্যে যে কারণ

১২

মেক্সিকো / বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

১৩

ফাঁস হয়ে গেছে মেসিদের পাসপোর্ট

১৪

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত

১৫

আমের হাটে ‘ঢলন’ সিন্ডিকেটে জিম্মি চাষি-ব্যবসায়ীরা

১৬

হেল্পলাইন ১০৯-এ কর্মরতরা ৩ বছর বেতন পান না : ডা. জাহিদ

১৭

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের সাক্ষাৎ / বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজমন্ত্রী

১৮

রাজনৈতিক নেতার পাশবিকতার শিকার কিশোরী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা!

১৯

চায়না মিডিয়া গ্রুপের ৫ম সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী

২০
X