কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

শীত এলেই ত্বকে লালচে দাগ?

শীত এলেই ত্বকে লালচে দাগ?

শীতকাল মানেই গরম পানীয়, নরম কম্বল আর জানালার বাইরে সাদা কুয়াশার মায়াবী দৃশ্য। কিন্তু এই আরামদায়ক সময়ের সঙ্গে অনেকের জীবনে হাজির হয় এক অস্বস্তিকর সমস্যা—উইন্টার র‌্যাশ। ত্বকে লালচে দাগ, খসখসে ভাব, চুলকানি—সব মিলিয়ে শীতের আনন্দ যেন খানিকটা ম্লান হয়ে যায়। অনেক সময় এ উপসর্গগুলো দেখে মনে হতে পারে, এটা কি একজিমা? নাকি সাময়িক শীতজনিত ত্বকের সমস্যা?

এ দুইয়ের পার্থক্য জানা থাকলে অযথা দুশ্চিন্তা এড়ানো যায় এবং ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়াও সহজ হয়

উইন্টার র‌্যাশ কী এবং কেন হয়

শীত পড়লেই অনেকের ত্বকে এক অদ্ভুত অস্বস্তি শুরু হয়। বাইরে ঠান্ডা হাওয়ায় বেরোতেই ত্বক যেন টানটান হয়ে আসে, কোথাও লালচে ভাব, কোথাও খসখসে দাগ। এ সমস্যাটিই পরিচিত উইন্টার র‌্যাশ নামে। ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়। ফলে ত্বকের বাইরের স্তর খুব দ্রুত নিজের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। আর্দ্রতার অভাবে ত্বক ডিহাইড্রেট হয়ে পড়ে, যার ফলেই দেখা দেয় লালচে ভাব, শুষ্কতা ও টান ধরার মতো অনুভূতি। উইন্টার র‌্যাশ সাধারণত ত্বকের খোলা অংশে বেশি দেখা যায়, যেমন—হাত, মুখ, বাহু বা কবজি। এ অংশগুলো সরাসরি ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শে আসে বলেই সমস্যা বেশি হয়।

একজিমা আসলে কী?

একজিমা একটি ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) ত্বকের সমস্যা, যা মূলত ত্বকের প্রদাহের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, একজিমা তখনই দেখা দেয়, যখন ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এই ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে গেলে ত্বক খুব সহজেই বাইরের পরিবেশের প্রভাবে জ্বালা ও প্রদাহে আক্রান্ত হয়। এমনকি খুব মৃদু আবহাওয়াতেও একজিমার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

শুধু শীত নয়, একজিমা বছরের যে কোনো সময় হতে পারে, তবে ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় এর উপসর্গ অনেক বেশি বেড়ে যায়। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে, যা একজিমার ফ্লেয়ার-আপকে ত্বরান্বিত করে। একজিমার সাধারণ লক্ষণ হলো—উইন্টার র্যাশের তুলনায় বেশি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী, তীব্র চুলকানি, লাল ও খসখসে দাগ, ত্বকে খোসা পড়া, বারবার চুলকানোর ফলে ত্বক মোটা বা শক্ত হয়ে যাওয়া। শরীরের কনুই ও হাঁটুর ভাঁজে, গলায়, চোখের পাতায়, হাতে কখনো কখনো বুকের অংশে একজিমা বেশি দেখা দেয়। এই নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে র‌্যাশ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। একজিমার সঙ্গে রয়েছে পারিবারিক যোগসূত্র। যাদের পরিবারে অ্যালার্জি, হাঁপানি বা একজিমার ইতিহাস রয়েছে, তাদের একজিমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। এখানেই একজিমা সাধারণ শীতকালীন র‌্যাশ থেকে আলাদা হয়ে যায়।

একজিমা না সাধারণ র‌্যাশ—কীভাবে বুঝবেন?

ঠোঁট, হাত, মুখ বা শরীরের অন্যান্য অংশে র‌্যাশ বা চুলকানি দেখা দিলে প্রথমে জানতে হবে এটা কি সাধারণ শীতকালীন র‌্যাশ নাকি একজিমা? বিভিন্ন ধরনের র‌্যাশ চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঠিক চিকিৎসা প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

র‌্যাশের ধরন ও প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন: র‌্যাশ কতদিন ধরে আছে, সাধারণ যত্ন বা ওষুধের পরে কতটা উন্নতি হচ্ছে। যদি আপনার ত্বক এক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং চামড়ার প্রতি যত্ন নেওয়ার পরে ভালো হয়, তাহলে এটি সাধারণ শীতকালীন র‌্যাশ হতে পারে। ডার্মাটোলজিস্টরা বলেন, যদি র‌্যাশ সঠিক যত্নের পরও বাড়তে থাকে, ব্যথা শুরু হয়, ফাটতে বা রক্ত পড়তে থাকে, তাহলে এটি একজিমার লক্ষণ। অনবরত চুলকানি থাকাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা, যা নির্দেশ করে কিছুটা বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

কখন ডার্মাটোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া উচিত?

যদি ওভার দ্য কাউন্টার ক্রিম ব্যবহার সত্ত্বেও এক-দুই সপ্তাহে উন্নতি না হয়, ডার্মাটোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

শীতকালে ত্বকের যত্নের সেরা রুটিন

শীতকালে ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণ শীতকালীন র‌্যাশ এবং একজিমার মধ্যে পার্থক্য জানা যেমন জরুরি, তেমনি ত্বককে সঠিকভাবে হাইড্রেট ও সুরক্ষিত রাখার উপায়গুলোও জানা প্রয়োজন। শীতকালে ত্বকের যত্নের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস—

হাইড্রেশনই মূল চাবিকাঠি: ত্বককে হাইড্রেট রাখতে ঘন, পেট্রোলিয়ামভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। হাত ধোয়া বা গোসলের পর সঙ্গে সঙ্গেই লাগান, যখন ত্বক সবচেয়ে বেশি আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে।

নরম, জেন্টল ক্লিনজার ব্যবহার করুন: সুগন্ধিমুক্ত, কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বজায় রাখে। কড়া সাবান বা স্ট্রং ক্লিনজার শীতকালে শুষ্কতা আরও বাড়াতে পারে।

হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন: বাড়িতে হিউমিডিফায়ার রাখলে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। শীতের শুকনো পরিবেশে এটি ত্বককে নরম ও আরামদায়ক রাখে।

সঠিক পোশাক পরুন: কটন বা নরম উলের মতো প্রাকৃতিক ফাইবার ত্বকের সঙ্গে সরাসরি স্পর্শে রাখুন। প্রয়োজনে লেয়ার করুন। ঘষা দেওয়া বা খসখসে কাপড় এড়ান, কারণ এটি ত্বককে র‌্যাশ বা চুলকানি করতে পারে।

গরম নয়, উষ্ণ পানি নিন: দ্রুত গোসল করুন এবং গরমের পরিবর্তে উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন। খুব গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা দূর করে, যা শুষ্কতার কারণ হতে পারে।

শীতকালে ত্বকের যত্ন মানেই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ করা, কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করা, বাড়িতে আর্দ্রতা বজায় রাখা আর ত্বককে ক্ষতি করতে পারে এমন পোশাক বা অত্যধিক গরম গোসল এড়ানো। এই ছোট ছোট পদক্ষেপেই আপনার ত্বক শীতের কষ্ট থেকে মুক্ত থাকবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কত টাকা চুক্তিতে খুন করা হয় বিএনপি নেতাকে

আজ ঢাকার তিন জায়গায় অবরোধ ঘোষণা

বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানে নতুন নির্দেশনা

ছবিতে প্রথমে কী দেখতে পাচ্ছেন, উত্তরই বলে দেবে কেমন মানুষ

বায়ুদূষণে শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার খবর কী 

চুরির শাস্তি শীতের রাতে পুকুরে কান ধরে ২০ ডুব

মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের তিন শাখায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

এবার ইরান ছাড়তে জরুরি সতর্কতা দিল ফ্রান্স ও কানাডা

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে মার্কিন শুল্ক নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া

ইরান / বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে বললেন ট্রাম্প, পাশে থাকার আশ্বাস

১০

১৪ জানুয়ারি : কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে 

১১

আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

১২

যে ৫ খাবারের সঙ্গে ভুলেও দুধ পান করবেন না

১৩

মানবিক ও সাম্যের ভিত্তিতে দেশ গড়বেন তারেক রহমান : মুন্না

১৪

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৫

নদীতে ভেসে উঠল কুমির, আতঙ্কে এলাকাবাসী

১৬

এসিআই মটরসে চাকরির সুযোগ

১৭

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ‘অ্যাডমিশন ফেস্ট, স্প্রিং-০২০২৬’-এর উদ্বোধন

১৮

বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১৯

গভীর রাতে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

২০
X