

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখা ‘ইসলামিক গ্রুপ (আল-জামা আল-ইসলামিয়া)’কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সংগঠনটিকে আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মুসলিম ব্রাদারহুডের জর্ডান ও মিশরের শাখার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব শাখা ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে সহায়তা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই পদক্ষেপ সহিংসতা ও অস্থিরতায় জড়িত মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের প্রথম ধাপ। তিনি জানান, সংগঠনগুলোর অর্থ ও সম্পদের উৎস বন্ধ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের নির্দিষ্ট শাখাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, গাজা যুদ্ধে লেবাননের একটি শাখা ইসরায়েলের দিকে রকেট ছুড়েছিল এবং জর্ডানে সংগঠনটির নেতারা হামাসকে রাজনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছিল।
মুসলিম ব্রাদারহুড ১৯২৮ সালে মিসরে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে জর্ডানেও সংগঠনটির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র অতীতে মুসলিম ব্রাদারহুডকে বৈশ্বিক সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও, এখন পর্যন্ত আলাদা আলাদা শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পথই বেছে নিয়েছে।
মন্তব্য করুন