তাসনুভা তিশা—নামটি বললেই যেন চোখে ভেসে ওঠে এক মিষ্টি, লাজুক হাসি। তবে এই হাসির ভেতর লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। পর্দায় তার উপস্থিতি সহজ, কিন্তু প্রতিটি দৃশ্যে যেন সে নিজের সুর বাজায়—কখনো হালকা ঝলক, কখনো গভীর স্পর্শ।
তার যাত্রা শুরু হয়েছিল মডেলিং দিয়ে, তবে পর্দার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল নাটক ও ওয়েব ধারাবাহিক। ছোট চরিত্রে তাকে দেখলে মনে হতো—এই মেয়েটা একদিন বড় কিছু করবে। আর আজ, সেই মেয়েটি পরিণত অভিনেত্রী হয়ে ফিরে এসেছে, চোখে আগের মতোই কৌতূহল, তবে হাতে আছে অভিজ্ঞতার মিশ্রণ।
তিশার অভিনয় বিশেষ। বড় শব্দের চাপে নয়, সরলতায় সে দৃশ্যের প্রাণ ফোটায়। কখনো চোখের কোণে ছোট্ট হাসি, কখনো নিঃশ্বাসের সামান্য বিরতি—এসবই দর্শকের মনে প্রশ্ন তোলে, ‘এ মুহূর্তে সে কি ভাবছে?’। আর ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা তার চরিত্রে মিশে যাই।
ওয়েব সিরিজ হোক বা টেলিফিল্ম, রোমান্স হোক বা সমাজ কথা—তিশার চরিত্রগুলো সবই জীবন্ত। সে কখনো হাহাকার, কখনো চিন্তায় ভাসে, আবার কখনো একদম হঠাৎ করে আমাদের হাসির খোরাক দেয়। দর্শক হাসে, কাঁদে, ভাবতে বসে—সবটাই একসঙ্গে।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিশার সরলতা চোখে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় রোলার স্টার শৈলী নয়, বরং যতটুকু দরকার, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পোশাক, সাজ—সবই তার পরিচয়ের অংশ, তবে কখনো নাটকীয় নয়। আর এ সততা তাকে আরও প্রিয় করে তোলে।
তিশার সঙ্গে কাজ করতে যাওয়া নির্মাতারা জানেন—তার ভেতর আছে পেশাদারিত্ব আর বন্ধুত্বের মিশ্রণ। সে গল্পের ভেতরে মিশে যায়, কিন্তু কখনো নিজের পরিচয় হারায় না। আর সেটাই তাকে এ সময়ের দর্শকের কাছে বিশেষ করে তোলে।
সত্যি বলতে কী, তিশার ফ্রেমে থাকা মানেই শুধু সিনেমা দেখার আনন্দ নয়; এটা যেন এক ছোট্ট যাত্রা—চরিত্রের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে আমরা নিজেকে খুঁজে পাই এবং সেই খোঁজটাই তাকে অন্য সব অভিনেত্রী থেকে আলাদা করে।
পরিশেষে, তাসনুভা তিশা এখন শুধুই একজন অভিনেত্রী নয়। সে এক বন্ধুর মতো, এক গল্পকারের মতো, যে আমাদের চোখে হাসি ফোটায়, মনে প্রশ্ন জাগায়, আর সবশেষে মনে রাখিয়ে দেয়—পর্দার যে কোনো গল্প, মানুষের আবেগ ছাড়া অসম্পূর্ণ।
মন্তব্য করুন