কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিএবি’র নতুন চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার

রোমো রউফ চৌধুরী (বামে), আব্দুল হাই সরকার (মাঝে) ও মোহাম্মদ আবদুল মান্নান (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত
রোমো রউফ চৌধুরী (বামে), আব্দুল হাই সরকার (মাঝে) ও মোহাম্মদ আবদুল মান্নান (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নতুন এডহক কমিটি গঠিত হয়েছে।

ছয় মাসের জন্য গঠিত এই কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ও ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী।

দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিএবির সাধারণ সভায় নতুন এই এডহক কমিটি গঠন করা হয়।

বিএবি সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস পর নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনটির পরবর্তী কমিটি গঠন করা হবে।

এডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে ১৭ বছর পর সংগঠনটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এলো। আইন অমান্য করে ২০০৮ সাল থেকে টানা ১৭ বছর বিএবির চেয়ারম্যানের পদ ধরে রেখেছিলেন এক্সিম ব্যাংকের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।

যদিও বিএবির সংঘস্মারক অনুযায়ী, এক কমিটির মেয়াদ তিন বছর। কিন্তু এই আইন মানেননি নজরুল ইসলাম মজুমদার। এই পদে থেকেই তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং সাবেক গভর্নরকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার নির্দেশেই বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের নানা ছাড় দিয়ে একের পর এক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

এসব নীতিমালার কারণেই আজ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বিষফোড়া তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

গত ১৫ বছর আগে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ১৫ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। এই ঋণের বড় অংশই আদায় অযোগ্য।

তবে পুনঃতপশিল ও পুর্নগঠন করা ঋণ, আদালতের আদেশে স্থগিত করা ঋণ এবং অবলোপনকৃত ঋণ মিলিয়ে প্রকৃত খেলাপি ঋণ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশের সরকার পরিবর্তন হয়। রাজনৈতিক এই পট পরিবর্তনের পর নজরুল ইসলাম মজুমদারকে এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফলে বিএবির চেয়ারম্যান পদও হারান তিনি। পাশাপাশি নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিএবির দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও সরকার বদলের পর ব্যাংকের পরিচালক পদ হারিয়েছেন। ফলে এই দুজনও বিএবির নেতৃত্বে থাকার যোগ্যতা হারান।

তারা হলেন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু। তিনি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের ভাই। অপরজন হলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএবি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ায় নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আ.লীগকে নিষিদ্ধ করলে ভালো হতো’

নিজেদের কত সৈন্য মারা গেল জানাল ভারতের সেনাবাহিনী

চাঁদা দাবি, ছাত্রদল-যুবদল নেতাসহ আটক ১০

রাত ১২টার মধ্যে যেসব জেলায় হতে পারে বজ্রবৃষ্টি

ক্ষমতার জন্য বিএনপি রাজনীতি করে না : আমিনুল হক

ফর্মে না থাকলেও লিটনের পাশে সালাউদ্দিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বজ্রপাতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি 

এক নজরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও ফলাফল

ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালে খোলা হলো হিটস্ট্রোক সেন্টার

১০

জমি লিখে না দেওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে জখম

১১

গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

১২

ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

১৩

ঢাবির জিয়া হলে শিক্ষার্থীরাই বসালেন ঠান্ডা পানির মেশিন

১৪

আ.লীগের সম্পত্তি ক্রোকের প্রস্তাব করবে আপ বাংলাদেশ

১৫

কলেজের অর্থ আত্মসাৎ করে লন্ডনে পাড়ি জমালেন শিক্ষক দম্পতি

১৬

তরুণদের আদর্শ হবে শহীদদের ত্যাগ : চসিক মেয়র

১৭

আখাউড়ায় বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু

১৮

বিবিসির বিশ্লেষণ / তুরস্ক কেন প্রকাশ্যে ভারতের বিরোধিতা এবং পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে?

১৯

সমাজে ভারসাম্যের জন্য কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই : নূরুল ইসলাম বুলবুল 

২০
X