কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৪, ০৬:৪২ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০৬:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘ব্যাংকের সমস্যা নীতি-নির্ধারকদের বোঝানোর মতো লোক প্রয়োজন’

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। পুরোনো ছবি
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। পুরোনো ছবি

‘ঋণ পুনঃপুনঃ পুনঃতপশিল ব্যাংকের মূল সমস্যা। একারণে ব্যাংকে অর্থের টান পড়েছে। এজন্য টাকা ছাপিয়ে বা বন্ডের মাধ্যমে বাজারে টাকার জোগান দিতে হচ্ছে। যার ফলে মূল্যস্ফীতি কমছে না। তাই শক্ত হাতে খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। এই বিষয়গুলো নীতি-নির্ধারকদের বোঝানোর মতো একটা লোক প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার (২ মে) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআর‌এফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের ঋণ খেলাপি, কর খেলাপি এবং অর্থপাচার একই সূত্রে গাথা। কেন যেন অর্থ পাচারের ব্যাপারে সরকার এবং ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড (আইএমএফ) নীরব। কিন্তু এটা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কৃষককে ৫০০ বা হাজার টাকার ঋণের জন্য জেলে নেবে আর যে ব্যক্তি ১০হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পর উধাও হয়ে যায় তাকে সালাম দেবে, পাশে বসাব- এটা হতে পারে না। ঋণ খেলাপিদের ডেকে পাশে বসিয়ে চা আপ্যায়ন করা হয়, এটি বেশি দিন চলতে পারে না।

ফরাসউদ্দিন বলেছেন, একীভূত বিষয়টা নতুন না। এটি বিভিন্ন দেশে রয়েছে। তবে এক ব্যাংকের সঙ্গে অন্য ব্যাংককে জোর করে একীভূত করে খারাপ ব্যাংককে ভালো করা যাবে না। একীভূত বা টেকওভার হতে পারে। তবে কোনো কিছুই জোর করা ঠিক হবে না। যে দুটি ব্যাংক একীভূত হবে তাদের নিজেদের সম্মতি নেওয়া জরুরি। এ পদ্ধতি সারা পৃথিবীতেই আছে। অতীতে বাংলাদেশেও হয়েছে। এটাতে জোর করে না চাপিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একীভূত করা উচিত।

সাবেক এ গভর্নর বলেন, প্রায় ১০ মাস ধরে আমাদের মূল্যস্ফীতি ১০’র কাছাকাছি। মন্ত্রীরা বলছেন ৯ দশমিক ৭ মূল্যস্ফীতির পরও মানুষ ভালো আছেন। বাস্তবতা বিবর্জিত কথা। চাকরিজীবীদের হয়তো কিছুটা বেতন বেড়েছে। তার মানে এই মূল্যস্ফীতিতে তারা ভালো আছেন এটা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অথচ আমরা পারিনি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের মনিটরিং পদ্ধতি বদলাতে হবে। টিভিতে মনিটরিং না করে সরাসরি তদারকি বাড়াতে হবে। তা না হলে মূল্যস্ফীতি কমানো যাবে না।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে ঋণ খেলাপি, কর খেলাপি, পাচারকারী একই সূত্রে গাঁথা। এ মুহূর্তে ব্যাংকে আমানত আসা দরকার। আমানতের বিমার হার এক কোটি টাকা করা দরকার। আমানত আসতে যতো বাধা সব দূর করতে হবে। তবেই ঘরের টাকা ব্যাংকে ফিরে আসবে।

তিনি আরও বলেন, এখন বোরো ফসল কাটা শুরু হয়েছে। সরকার আগামী ১৫ দিন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০ লাখ টন খাদ্য সংগ্রহ করলে কৃষকরা বাঁচবে। আবার অসাধুরা যেন কম দামে কৃষকের ফসল না নিতে পারে সেটাও দেখতে হবে। এটা করতে পারলে ফসলের আসল দাম পাবেন কৃষকরা। পরে এটা সংকট মুহূর্তে উন্মুক্ত করে দিতে পারে সরকার।

বৈষম্য বিষয়ে সাবেক এ গভর্নর বলেন, ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দয়ামায়া কমে যায়। এখন সেটাই হচ্ছে। আর এ কারণেই বৈষম্য বেড়েছে। তবে পার্থক্যও কিছুটা রয়েছে। কারণ, ৩০ বছর আগের গরিব আর এখনকার গরিব এক জিনিস নয়, এর মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমাদের বৈষম্যটা আগে কমাতে হবে।

ইআরএফ সম্পাদক আবুল কাশেমের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা। উপস্থিত ছিলেন- প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন, ইআরএফ নেতারাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

কালবেলা/এফএফ/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মার্কিন ভিসা আবেদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের

ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, সবাইকে সমান মর্যাদায় দেখতে হবে: আইনমন্ত্রী

১৫ আগস্ট ঢাকায় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন

ফ্লাইওভারে ওড়ানো সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীকে দিতে চান গুলিবিদ্ধ আজিজুর 

যুবদল কর্মী পারভেজ হত্যা: ৩ দিনের রিমান্ডে শ্যুটার চঞ্চল

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে ছিটকেই গেলেন নাহিদ রানা, অনিশ্চিত আরও দুই ক্রিকেটার

সারাদেশে বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: ঢাবি ভিসি

রিমান্ড শেষে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি ও তার সহযোগী কারাগারে

পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়তে ৩৩০০ ভবনে একযোগে অভিযান

১০

পরিকল্পিত নগরায়ন গড়তে সবুজায়নের বিকল্প নেই: ভূমিমন্ত্রী 

১১

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলা ও শিক্ষার বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

১২

যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে শুল্ক আরোপ করেছে তা ভিত্তিহীন: বাণিজ্যমন্ত্রী

১৩

সেরা গোলের দৌড়ে আর্জেন্টিনার দুই তারকা, তালিকায় আরও আছেন যারা

১৪

শিকড় সন্ধানী 'ইত্যাদি' এবার লক্ষ্মীপুরে, কবে প্রচার?

১৫

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাঁধনের সিনেমা

১৬

সাধারণ মানুষ ভাবে, যা হয় সবই সরকারের দোষ: বিদ্যুৎমন্ত্রী

১৭

খেলতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে গেল ২ শিশু

১৮

নিয়োগ পরীক্ষার হলে সাবেক এমপি পুত্রের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

১৯

প্রবাসীদের আইন মেনে চলতে হবে: মোবাশ্বের আলম

২০
X