কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৪, ০৪:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গভর্নর, ডেপুটি গভর্নরদের সব প্রোগ্রাম বর্জন

প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

পুরানা পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছবি : কালবেলা
পুরানা পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে মাঠে নেমে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থনৈতিক সংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশাধিকার নিয়ে ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে মিথ্যাচার-প্রপাগান্ডার জোর প্রতিবাদ করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (২০ মে) রাজধানীর পুরান পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

ইআরএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের আগের মতো অস্থায়ী পাস নিয়ে নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার চাই। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা ও একাধিকবার চিঠি চালাচালি করা হয়েছে কিন্তু সমাধান হয়নি। যদি নিয়মতান্ত্রিক আলোচনায় প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা বলেন,

প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরে কোনো বিষয়ে মাঠে নামেনি ইআরএফ। যদি দাবি না মানা হয় তাহলে কঠোর আন্দোলনে মাঠে নামা ছাড়া উপায় নেই। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, এখন দাবি না মানলে আন্দোলন ছাড়া উপায় দেখছি না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারে কি না তা নিয়ে কেউ–কেউ প্রশ্ন তুলেছেন জানিয়ে ইআরএফ সভাপতি বলেন, আমাদের জানতে হবে অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট অনেক সমৃদ্ধ। সেখানে অর্থনীতির সব সূচকের নিয়মিত আপডেট ছাড়াও বোর্ড মিটিংয়ের কার্যবিবরণী, বিভিন্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ সব ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়। কোনো সাংবাদিক প্রশ্ন করলে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়। আবার এসব দেশের আর্থিক খাতের সুশাসনের মাত্রা অনেক উঁচুতে। পদ্ধতিগত কারণে সেখানে কোনো অনিয়ম–দুর্নীতির তথ্য আড়াল করা কঠিন। এছাড়া বেনামি ঋণ, ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারকারী বা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারে বলে আমাদের জানা নেই। এখন বাংলাদেশে সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে কেবল সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আসলে কি তথ্য আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে, আমরা সে প্রশ্ন রাখতে চাই।

দাবি না মানলে কী কর্মসূচি হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, আগামী জাতীয় বাজেটের আগে যদি বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে বাজেটের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অবস্থান ও সমাবেশ করা হবে। এছাড়া দাবি না মানা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও মুখপাত্রের সবধরনের প্রোগ্রাম বর্জন করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে ইআরএফ সভাপতি জানান, গত ২১ মার্চ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অলিখিতভাবে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ বিষয়ে সমাধান চেয়ে ইআরএফের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়েছে এবং দু’দফা চিঠিসহ বিভিন্নভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রায় দু’মাস হলেও সমস্যার সমাধান না করে এখন বিভিন্ন ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় আজকের এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। এখানে আমি একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। সাংবাদিকরা এর আগে নিজের কার্ড প্রদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারতেন। এখন তা বন্ধ করা হয়েছে। হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় নানা গুজব ডালপালা মেলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা সে প্রশ্ন উঠছে।

সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে পাঠক, গবেষক, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রকৃত তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হয়। সাংবাদিকরা অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য মজুদ ও আমদানি পরিস্থিতি, বাজার ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থা, সুদহার, রাজস্ব পরিস্থিতি, সরকারি-বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। আবার খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন সমস্যার তথ্য তুলে ধরলে সরকার তাতে উপকৃত হয়। নিতে পারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ তথ্যের উৎস কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন হঠাৎ করে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করার ফলে ভুল তথ্য, অর্ধ সত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবার একটি তথ্য পাওয়ার পর ডেস্ক অফিসারের মাধ্যমে বুঝে প্রকৃত তুলে ধরার সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে।

ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলেও অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বর্তমান গভর্নর কার স্বার্থে কেবল গণমাধ্যমের কাছে তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোনো ভুল নীতির কারণে অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি হলে তার দায়ভার আমাদের সবার ওপর পড়বে। এ রকম অবস্থায় আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা আগের মতোই অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত হোক। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাইন বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ল দুটি তেলবাহী ট্যাংকার

বই পড়ে পুরস্কার পেল পৌনে তিন হাজার শিক্ষার্থী

১৮ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

শিক্ষার্থীরা কেউ অটোপাসের দাবিতে রাজপথে নামেনি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার যবিপ্রবি ছাত্রী

নবাবগঞ্জে মহিলা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

১৮ জুলাই: অভ্যুত্থানের প্রথম বিজয় এসেছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে

বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ শনিবার

ঝিনাইদহে ওসির সামনে ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল বিশ্বের সবচেয়ে দামী

১০

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার নতুন সভাপতি সাঈদ-সম্পাদক জসিম

১১

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতি নয়: ডা. জাহিদ

১২

ভাড়া বাসা থেকে নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

১৩

যমুনার পানি বৃদ্ধি: আমনের বীজতলা তলিয়ে বিপাকে কৃষক

১৪

আই হ্যাভ এ প্ল্যান: লেবারের নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম

১৫

বগুড়ায় পরীক্ষা শুরুর ২২ মিনিট পর প্রশ্ন বিতরণ, এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

১৬

কারাগারের দেয়াল টপকে পালালেন আসামি

১৭

শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই চাচি গ্রেপ্তার

১৮

সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বাপ্পি গ্রেপ্তার

১৯

আইনমন্ত্রীর পরিচয়ে প্রতারণা করতেন আতিয়ার

২০
X