

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের অভিযোগে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন অর্থ দপ্তরও ১৮ ব্যক্তির ওপর পৃথক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি, ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তারাই দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মূল নকশাকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ফারদিস কারাগারকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এই কারাগারে নারী বন্দিদের ওপর ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ’ চালানো হয়েছে।
এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, মার্কিন ট্রেজারি জানে—ডুবন্ত জাহাজ থেকে পালানোর মতো করে আপনারা ইরানি জনগণের কাছ থেকে চুরি করা অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা আপনাদের অর্থের গতিপথ অনুসরণ করব।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা স্পষ্ট—সহিংসতা বন্ধ করুন এবং ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ান।
স্কট বেসেন্ট বলেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবিতে ইরানি জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তার হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।
এ বিষয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের মিশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তেহরানের শাসকগোষ্ঠী বরাবরের মতোই এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি দুর্নীতি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
মার্কিন অর্থ দপ্তর পৃথক এক নিষেধাজ্ঞায় ১৮ জনের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘ছায়া ব্যাংকিং’নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজের অভিযোগ করা হয়েছে। ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির অর্থ পাচারের জড়িত ছিলেন তারা।
মন্তব্য করুন