

রাজধানীর শান্তিনগরে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবে ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা তদন্ত করে ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন রিটার্নিং অফিসার।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনের কমিটির সিভিল জজ মো. শামসুল হককে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন।
পত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ২৭ জানুয়ারি কলেজ প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটোওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনকালীন সময়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন নির্বাচনী পরিবেশ এবং ‘নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এর আগে, বিষয়টি নিয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। ৩০ জানুয়ারি ওসি এবং ২৯ জানুয়ারি অধ্যক্ষ তাদের স্ব-স্ব প্রতিবেদন ও ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে ওসি রমনা থানা এবং কলেজের অধ্যক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তদন্তের সুবিধার্থে চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সাতটি পাতা সংযুক্ত করা হয়।
হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কলেজ কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হাবীবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সারা বছরই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নানা সহশিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় কলেজের অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এবং গভর্নিং বডির সম্মতিক্রমে গত বছরের মতো এবারও মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) শীতকালীন পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও কলেজের অভ্যন্তরীণ আয়োজন ছিল।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরে কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনের কোনও নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এছাড়া অনুষ্ঠানে কোনও ধরনের সভা, সমাবেশ কিংবা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অনুষ্ঠানে কোনও সভাপতি বা প্রধান অতিথি নির্ধারিত ছিল না এবং আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য দেওয়ার সূচিও ছিল না। অতিথি হিসেবে কেবল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মতো নিয়মিত আয়োজন হিসেবে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমেই শিক্ষার্থীরা পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছিল। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে বলেও জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ ছড়ায়। এনসিপি প্রার্থী ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘হেনস্তার শিকার’ হন। তার দিকে ডিম ছোড়া হয়। পরে এনসিপি অভিযোগ তোলে, বিএনপি প্রার্থীর ‘নির্দেশে’ তার সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অন্যদিকে মির্জা আব্বাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
মন্তব্য করুন