

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়াকে ঘিরে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের কোনো ধরনের অনিরাপদ বা উসকানিমূলক আচরণ তারা মেনে নেবে না।
শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের সরাসরি গোলাবর্ষণসহ নৌ-মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করেছে। এ বিষয়ে ইরানকে ‘নিরাপদ ও পেশাদার আচরণ’ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সেন্টকম সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল বিপন্ন হলে সংঘর্ষ, উত্তেজনা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমা ও আকাশপথে কার্যক্রম চালানোর অধিকার ইরানের রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী, মিত্র দেশ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা প্রশ্নে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী বলেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের সেনা, জাহাজ ও বিমান রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কম উচ্চতায় বা অস্ত্রসহ উড্ডয়ন, দ্রুতগতির নৌযানের বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে আসা কিংবা মার্কিন বাহিনীর দিকে অস্ত্র তাক করার মতো আচরণ তারা গ্রহণ করবে না।
এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ‘আব্রাহাম লিংকন’ নামের একটি বিমানবাহী রণতরী নেতৃত্বাধীন নৌবহর মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে এই বহর ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে প্রস্তুত।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। ফলে সেখানে সামান্য ভুল হিসাবও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
এদিকে, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্যপতনের জেরে গত ২৮ ডিসেম্বর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার বলে স্বীকার করেছে।
মন্তব্য করুন