২০০৯ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রনয়নের নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত। এরপর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই আইন প্রণয়নে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন এই আইনের খসড়া তৈরির কাজ করেছে। এসব খসড়া আইনেও বেশকিছু পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের প্রয়োজন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত 'প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন- ২০২২' নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। বেসরকারি সংস্থা এডুকোর সহায়তায় জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এই সভার আয়োজন করে।
সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০২ সাল যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০০৯ সালে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও আসে। এরপর ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে অনেক বেশি অগ্রগতি হওয়া উচিত ছিল।
কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সব পক্ষ চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের কাজে সম্পৃক্ত হতে পারে। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে অনলাইনে যৌন হয়রানির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সময় শিশুরা নিজের অজান্তেই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাই এ বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।
সভায় প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২২ এর খসড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি । তিনি জানান, খসড়া আইনে ৩০টি ধারা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের ৫ সদস্যের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য অভিযোগ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
সভায় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজা বলেন, খসড়া আইনটি নিয়ে আরও কাজ করার প্রয়োজন আছে । সারাদেশে লাখ লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সে সব প্রতিষ্ঠানে কমিটি করা এবং তাদের আইনগত ক্ষমতা দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, কারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কাদের মাধ্যমে হচ্ছেন, সেটা দেখতে হবে। নারীর পাশাপাশি পুরুষদেরও এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। অনলাইন অফলাইন সব জায়গাতেই যৌন হয়রানি হচ্ছে। পরিবার থেকে যৌন হয়রানি শুরু হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বক্তারা যখন বয়ান দেন, সেখানেও ভাষাগত বিভিন্ন বিষয় থাকে। সেখান থেকেও অনেকে যৌন হয়রানিতে উদ্বুদ্ধ হয়।
সভায় বক্তারা যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইন প্রণয়নের দাবি জানান। রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে যেন এই আইনের বিষয়টি যুক্ত করেন, সে ব্যাপারে কাজ করার পরামর্শ দেন তারা।
এছাড়া বক্তব্য দেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিনা আক্তার ডলি, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল (সদস্য সিনিয়র জেলা জর্জ) ও বাংলাদেশ মহিলা বিচারপতি সমিতি সভাপতি বিচারপতি তানজিনা ইসমাইল, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার আমিনুল ইসলাম সুজন, সেভ দ্যা চিলড্রেনের শাম্মী প্রমুখ।
মন্তব্য করুন