সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে পিএসসি’র প্রশ্নফাঁসকাণ্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে গ্রামের চায়ের দোকানের আড্ডা সব জায়গায় টক অফ দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে পিএসসি’র প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ও আবেদ আলী সমাচার।
আলোচিত বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) হাতে গ্রেপ্তার ১৭ জনের একজন সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গ্রেপ্তার সাজেদুল ইসলামের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলার মধ্যম চরবাটা গ্রামে।
সাজেদুল ইসলামের মধ্যম চরবাটা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে পৈতৃক একটি পুরোনো টিনের ঘর ছাড়া তেমন কিছু নেই। বাড়ির বাসিন্দা সাজেদুলের মামা আবুল হাসেম বলেন, সাজেদুলের বাবা সামছুল আলম মারা গেছেন আরও প্রায় পাঁচ বছর আগে। তিনি একটি সরকারি অফিসের গাড়িচালক ছিলেন। তবে কোন অফিসের, তা তারা জানতেন না। পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন তিনি। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতো। গ্রামে খুব বেশি সহায়-সম্পদ নেই তাদের।
সাজেদুলদের বাড়িতে তারা ছাড়া আরও পাঁচ থেকে ছয়টি পরিবারের বসবাস। তাদের পুরোনো ঘরে তার মামাতো ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। কয়েক বছর আগে সাজেদুল বাড়ি থেকে কয়েকশ গজ দূরে রবির দোকান নামক এলাকায় এক একর জমিতে পৃথক বাড়ির করার জন্য মাটি ভরাট করেছেন তিনি। সেখানে তার আলিশান বাড়ি করার কথা ছিল। রোজার ঈদের পর ওই জমির চার পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
ওই নতুন বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক একরের মতো জায়গা জুড়ে মাটি ভরাট করে বাড়ির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছ। বাড়ির উত্তর পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাড়ির সামনে স্তূপ করে রাখা আছে ইট-বালুসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী। সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে রয়েছে একটি মাদ্রাসা। ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন বলেন, মাদ্রাসার পাশের ওই বাড়ির মালিক ঢাকায় কোনো এক মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন বলে তিনি শুনেছি। আর এখন শুনছি- তিনি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সাজেদুলরা মাঝেমধ্যে গ্রামে আসতেন। কিছুদিন আগে সাজেদুল ইসলামের সুবাদে তার বোন ও ভগ্নিপতির সরকারি চাকরি হয়েছে।
তবে সাজেদুলের বোন ও ভগ্নিপতির সরকারি চাকরি পাওয়ার তথ্য সম্পর্কে এখনও ভালোভাবে জানা যায়নি।
২নং চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গ্রেপ্তার সাজেদুল ইসলামকে তিনি আগে চিনতেন না। সাজেদুল ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এলাকায় খুব একটা যাতায়াত ছিল না। তাদের বাড়িতে তারা কেউ থাকেনও না।
সাজেদুলের মামা আবুল হাসেম বলেন, এখন সাজেদুলদের যে পুরোনো বাড়ি, সেটি সাজেদুলের নানার বাড়ি। শ্বশুরের কাছ থেকে জায়গা কিনে এখানে বসতি গড়েছিলেন সাজেদুলের বাবা শামছুল আলম। সাজেদুলরা দুই ভাই ও দুই বোন। সাজেদুল ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে সরকারি চাকরি করেন। সাজেদুলের বাবা শামসুল আলমকে এলাকার সবাই ভালো মানুষ হিসেবে জানতো। নিজেদের বাড়ির একটা ছেলে এমন কাজ করতে পারেন, এটা তিনি ভাবতে পারছেন।
মন্তব্য করুন