বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘সবাই এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, কেউ আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না’

অসুস্থ মেয়েকে বিয়ে হাসপাতালে শহীদ রিটনের স্ত্রী। ছবি : কালবেলা
অসুস্থ মেয়েকে বিয়ে হাসপাতালে শহীদ রিটনের স্ত্রী। ছবি : কালবেলা

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে থমকে গেছে শহীদ রিটনের শিশু সন্তানের চিকিৎসা। চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো আশানুরূপ উন্নতি হয়নি তার শারীরিক অবস্থার। প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার মতো অর্থ না থাকায় চরম উৎকণ্ঠা আর অসহায়ত্বে দিন কাটছে শিশুটির মায়ের।

শিশুটির নাম তানিশা বেগম। সে জুলাই অভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ রিটনের কন্যা। তাদের বাড়ি নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ২২ নম্বর গ্রামে। বর্তমানে তানিশা হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে ভর্তি রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ডায়রিয়ায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলে তানিশাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হলেও প্রথম দুই দিন শয্যার অভাবে হাসপাতালের বারান্দায় থাকতে হয় তাকে। পরে একটি শয্যা জোটে। চার দিন ধরে চিকিৎসা চললেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বাড়ি থেকে যে সামান্য টাকা নিয়ে আসা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে ওষুধ কেনার মতো টাকাও নেই পরিবারের হাতে।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আচার্য জানান, শহীদ রিটনের শিশু সন্তানটি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তখন তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। দ্রুত ভর্তি দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। এখন অনেকটা উন্নতির দিকে রয়েছে।

শহীদ রিটনের মামা জুয়েল জানান, চার দিন আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় শিশুটির মা একাই তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এরপরও পাশের একটি দোকান থেকে বাকিতে কিছু ওষুধ এনে দিয়েছি। কিন্তু টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সহযোগিতা করেনি।

শিশুটির মা, শহীদ রিটনের স্ত্রী আফসানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সবাই এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। কেউ আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে প্রায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। খাবার কিনলে ওষুধ কেনা যায় না, আবার ওষুধ কিনলে খাবার জোটে না।

তিনি বলেন, আগে তাদের সংসার চলত স্বামীর পাঠানো টাকায়। তিনি ঢাকায় একটি মুদি দোকানে চাকরি করতেন। তার আয়ে পরিবার মোটামুটি ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু রিটনের মৃত্যুর পর পুরো সংসারের ভার এসে পড়েছে আফসানার কাঁধে। কোনো স্থায়ী আয় না থাকায় প্রতিদিনের জীবনযাপনই এখন বড় সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ফিল্মি স্টাইলে’ হামলা চালিয়ে পুলিশের হাত থেকে আসামি ছিনতাই

অবশেষে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা-দাফনের সময় জানাল ইরান

বিশ্বকাপের আগেই সুসংবাদ / নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির বার্তা

মাঝ আকাশে বিমানের জানালার কাচ ভাঙলেন যাত্রী!

আলভারেজকে নিয়ে রিয়ালের ‘মেগা বিড’, প্রত্যাখ্যানের ঘোষণায় চমকে দিল অ্যাটলেটিকো 

সম্পদ-দলীয় প্রতীক সবই হারাচ্ছেন মমতা!

বিমান বাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড্যাব

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চোখে আলো ফিরেছে ৮৪ জনের

বাজেটে মোবাইল, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিপণ্যে বড় সুখবর

১০

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১১

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

১২

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

১৩

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

১৪

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

১৫

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

১৬

বাংলার নদী, বাংলার জীবন : ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা

১৭

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

১৯

ল্যাবএইডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

২০
X