শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভবনের একটি কক্ষ এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সন্ধ্যা হলেই সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডাসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। এতে করে মাদকে আসক্ত হচ্ছে এলাকার যুবসমাজ। এতে হাসপাতালের চিকিৎসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে জানান রোগী ও স্বজনরা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবনকারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভবনের একটি কক্ষে মাদকসেবন করে। সন্ধ্যা নামলেই বেড়ে যায় তাদের আনাগোনা। অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক রুবেল মিয়াও এর সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম অনেকের চোখে পড়লেও মাদকসেবীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক এলাকার ভেতরের পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবন করার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আমি সরাসরি দেখিনি। হাসপাতালে মাদকসেবীদের আনাগোনা বন্ধ করতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে একাধিকবার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। গত ২২ জুলাই ওসিকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করেছি। এ ছাড়া সিভিল সার্জনকেও জানিয়েছি।
তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সচালক রুবেলের বিষয়েও অভিযোগ পেয়েছি। করোনাকালে মাদকের অপরাধে তাকে পুলিশ আটকও করেছিল। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করা হয় এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী প্রমাণিত হয়। এ সময় মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. রুবেল মিয়া বলেন, হাসপাতালের ভেতরে স্টাফ কোয়ার্টারে আমি পরিবার নিয়ে বসবাস করি। যে জায়গাটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে আমি কোনোদিন যাইনি, কখনো দেখিনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি উঠেছে সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা পূর্বশত্রুতার জেরে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগও নেই।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় বলেন, এ বিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডা. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পেয়েছি। এরপর থেকে মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করতে থানার পক্ষ থেকে বিশেষ পুলিশ টহল জোরদার করেছি।
মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। মাদক সেবনকারীদের আনাগোনা বন্ধ করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক এলাকার পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙে ফেলার জন্য বলেছি। অ্যাম্বুলেন্সচালকের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাদক সেবনকারীদের আখড়ার বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। হাসপাতালের ভেতরে যদি মাদকসেবন করা হয় চিকিৎসকরা কি করে। কেউ আমাদের জানায়নি। খোঁজ নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।
মন্তব্য করুন