আলোর প্রদীপ যুব সংগঠনের কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার (১২ আগস্ট) সংগঠন কার্যালয়ের সামনে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় এলাকার স্থানীয় সর্বস্তরের প্রায় তিন শতাধিক জনসাধারণ অংশ নেয়। তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় আব্দুস ছোবাহান সরকার বলেন, কেন এই সংগঠন কার্যালয়ে হামলা হবে? এটি তো কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না। এটি একটি সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন। আলোর প্রদীপ সুখে দুখে আমাদের এলাকার দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে সহায়তা করেছে। আমরা এলাকাবাসী এই প্রতিষ্ঠানের কাছে কৃতজ্ঞ। এটি আমাদের প্রতিষ্ঠান, এলাকার হতদরিদ্র মানুষের প্রতিষ্ঠান। এমন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলা আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাব যেন এই হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তি প্রদান করা হয়।
মোছা. সীমা বেগম বলেন, আমরা এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক সেবা সহায়তা পেয়েছি। আমাদের ঈদের বাজার, কারও অসুখ হলে তাকে সহায়তা, ছাত্র-ছাত্রীদের খাতা, কলম, ডিম এগুলো দিয়েছে তারা। কারা এই সংগঠনে হামলা করেছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ছাড়াও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. আব্দুল হালিম (বুলু), মো. আসাদুজ্জামান সরকার (কিনে), মো. ফারাজুল ইসলাম, মোছা. নাজমুনন্নাহার বেগম, মোছা. ফাতেমা খাতুন, মোছা. বেদেনা বেগমসহ স্থানীয়দের অনেকেই। তাদের একটাই দাবি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যেন দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সংগঠিত হয়ে সোনাতলা উপজেলার কাবিলপুরে অবস্থিত কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে সংগঠন অফিসে থাকা সদস্যদের সঞ্চয়ের নগদ ২০ হাজার টাকা, হস্তশিল্প প্রকল্পের জন্য আনা প্রায় ৭০ হাজার টাকার কাচামাল ও উপকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আসবাসপত্র লুটপাট করে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
পিছিয়ে পড়া সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তার মহান ব্রত নিয়ে মাত্র দুই টাকা পুঁজির মাধ্যমে ১১ অক্টোবর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আলোর প্রদীপ। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে যুবউন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন প্রাপ্ত হয় (নিবন্ধন নম্বরঃ বগুড়া-১৩০)।
আলোর প্রদীপ সংগঠনের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৮৬ জন অতি দরিদ্র শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক সমাপনী পর্যন্ত শিক্ষার সব ব্যয় বহন, একজন শিক্ষার্থীর মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ, ৩৭১ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে এককালীন বৃত্তি প্রদান, সোনাতলা উপজেলার ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ২ হাজার ৪৭৪ জন শিক্ষার্থীকে এককালীন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শারীরিক পুষ্টি সমস্যার কথা মাথায় নিয়ে ২০১৩ সালে শুরু করা হয় পুষ্টি প্রকল্প, যার মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার জন শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার প্রদান করা হয়েছে। অত্র উপজেলায় ২০৯ জন দুস্থকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ৩৪ টি কন্যা দায়গ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা প্রদান, ৫ হাজার ২৫৫ জন দুস্থ মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণ, ৬ হাজার ১৩০ জন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়াও এলাকার মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে শুরু করা হয়েছে মাদকবিরোধী নানা কর্মসূচি। এর মধ্যে ২০১২, ২০১৪, ২০১৯ সালে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে বছরব্যাপী সমগ্র উপজেলায় ভেন্যুভিত্তিক মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশে করোনাকালীন সবাই যখন ঘরবন্দি, তখন আলোর প্রদীপের কর্মীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম চালায়। যার মধ্যে হ্যান্ডসেনেটাইজার বিতরণ, ঘরবন্দি মানুষকে ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা প্রদান, বাজার মনিটরিং ছিল প্রশংসার দাবিদার।
এ ছাড়াও যুবউন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন গ্রহণের পরবর্তীতে গাভি পালন, ব্লক প্রিন্টিং, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন বিষয়ে সর্বমোট ১৪০ জন বেকার যুবককে বিভিন্ন মেয়াদের প্রশিক্ষণ এবং ১১ জন সদস্যকে প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে চার লাখ ৪০ হাজার টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন