মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩৩
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ ধামাচাপা, ৭ দিন পর ফাঁস

অভিযুক্ত শিক্ষক খায়রুল আলম ওরফে সোহেল রানা। ছবি : সংগৃহীত
অভিযুক্ত শিক্ষক খায়রুল আলম ওরফে সোহেল রানা। ছবি : সংগৃহীত

দশ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। লালমনিরহাট সদরের পশ্চিম হাড়িঙ্গা এলাকার দারুল উলুম বাবুস সালাম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটলেও সাত দিন পর শনিবার দুপুরে তা লোকমুখে প্রকাশ পায়।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম খায়রুল আলম ওরফে সোহেল রানা। তিনি ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসা কমিটিসহ মাদ্রাসার মোহতামিম জুবায়ের হোসেন সাদ্দাম ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়াসহ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবাকে ডেকে এনে কৌশলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং ভয়ভীতি দেখান যেন কোথাও কোনো অভিযোগ না করেন। পরে ঘটনার সাত দিন পর শনিবার লোকমুখে তা প্রকাশ পায়।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের তোপের মুখে মাদ্রাসা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কমিটি।

ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা বলেন, আমার ছেলেকে কোরআনে হাফেজ করার উদ্দেশ্যে গত একমাস আগে দারুল উলুম বাবুস সালাম মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে ভর্তি করাই। মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থেকে লেখাপড়া করত সে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক খায়রুল আলম ভুক্তভোগী নাবালক শিক্ষার্থীর পাশে শুয়ে উলঙ্গ করে বলাৎকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ভয় পেয়ে শিশুটি চিৎকার করে। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে ভোরের আলো না ফুটতেই অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর বাবা ও তার দাদি আরও জানান, এ ঘটনার ব্যাপারে মাদ্রাসার মোহতামিম জুবায়ের হোসেন সাদ্দামকে মৌখিকভাবে জানানো হলে তারা গত সাত দিন থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে সত্যতা যাচাই করার কথা বলে আমাদের মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এ সময় মোহতামিম জুবায়ের হোসেন মাদ্রাসাছাত্রের ডিএনএ টেস্ট করার কথা বলেও ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাদি।

ওই মাদ্রাসার এক অভিভাবক বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক খায়রুল আলম ওরফে সোহেল রানাকে মাদ্রাসায় পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ওই মাদ্রাসার মোহতামিম জুবায়ের হোসেন সাদ্দাম ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে বলেছেন, আমি এ কাজে জড়িত নই। পরে অভিযোগকারীর সঙ্গে মীমাংসা হয়েছে এবং তারা সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছেন বলে জানান মোহতামিম জুবায়ের হোসেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এর আগেও অন্য এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ উঠে এলে আমরা সেই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করি। বারবার একই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনা কেন ঘটে? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। লালমনিরহাট সদর থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, এমন ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একীভূত হচ্ছে সরকারের ৬ প্রতিষ্ঠান

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ইইউবি’র মামলা

বিশ্বকাপে না থাকা বাংলাদেশের প্রতি যে বার্তা দিল স্কটল্যান্ড

দেশে মাদক সেবনকারী ৮২ লাখ, প্রায় ৬১ লাখই গাঁজাখোর

চমক রেখে বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

একটি দল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে : দুলু

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রাশেদ গ্রেপ্তার

ছবি তোলায় আদালত চত্বরে সাংবাদিকের ওপর হামলা বিআরটিএ’র কর্মকর্তার

৫ শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ বৈঠক

আগামীতে নারীদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা আছে : জামায়াত

১০

ডেমোক্র্যাটের মুসলিম নারী সদস্যের সম্পদ নিয়ে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

১১

ভোটের দিন ফজর নামাজ পড়ে কেন্দ্রে যাবেন, ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরবেন : কায়কোবাদ

১২

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জাতি দায়মুক্ত হতে পারে না’

১৩

সন্ত্রাসী হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত

১৪

বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি জোরালো হচ্ছে

১৫

সাফে ব্যর্থতার নেপথ্যে কি ইনতিশার!

১৬

নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত হবে এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই : জামায়াত আমির

১৭

ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব, প্রাণ গেল ১১ জনের

১৮

আইইউবিএটির সমাবর্তনে বৈশ্বিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

১৯

রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও নীরবতার সময় ডাভোসে ট্রাম্প

২০
X