টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভারি বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দুই হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত

২৪ ঘণ্টার বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ছবি : কালবেলা
২৪ ঘণ্টার বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ছবি : কালবেলা

টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ছয় হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও চিংড়ির ঘের। ভূমিধসের ঝুঁকিতে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কর্তৃক টেকনাফে ২৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং, হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সদর ইউনিয়নে বসবাসকারী ৮০০ পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া টেকনাফের লেদা, জাদিমুড়া ও আলীখালী ক্যাম্পের ৭০০ ঘর ডুবে গেছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। যেসব গ্রামে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে আমরা তাদের সহায়তা করছি। ইতোমধ্যে আমরা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন গ্রামে ২৫০ পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। পর্যায়ক্রমে ৭০০ পরিবারকে শুকনো খাদ্য বিতরণ করা হবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আছে। সেসব লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে মাইকিং করা হয়েছে।

টেকনাফ সদরের বাসিন্দা মো. আলী বলেন, ঘরে পানি ঢুকেছে। সকাল থেকে শুধু চিড়া-মুড়ি খেয়ে দিন পার করছি। কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। আশপাশে অন্তত ৩৫টি পরিবার রয়েছে। সবার ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারেনি। বেশি বৃষ্টি হলেই সব তলিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফের জাহঁলিয়া পাড়া, লেংগুরবিল, মিটা পানির ছড়া, হাবির ছড়া, দক্ষিণ লেংগুরবিল, দক্ষিণ লম্বরী, নতুন পল্লান পাড়া, মুন্ডার ডেইল, শাহপরীরদ্বীপ লামার পড়া, মহেশখালীয়া পাড়া, হ্নীলা রঙিখালী, আলিখালী, দমদমিয়াসহ শত শত গ্রামে বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং ধান ক্ষেত, পানের বরজ, বিভিন্ন ফলের ক্ষেত, মাছের প্রজেক্টসহ অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, ভারি বৃষ্টিতে অনেক গ্রাম তলিয়ে গেছে। হাজারো পানিবন্দি মানুষের কষ্টের শেষ নেই। ভারি বর্ষণে তার এলাকার ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি প্রধান সড়কেও পানি উঠেছে।

টেকনাফে জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা জাফর আলম বলেন, ক্যাম্পের অনেক ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। নারী ও শিশুরা অনেক কষ্টে আছে। আমরা তাদের সহায়তার চেষ্টা করছি। রোহিঙ্গা ঘরে থাকতে পারছে না, আমরা অনেক আতঙ্কে রয়েছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির জনসভায় অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন চুরি

বিএনপি-জামায়াতের ভোট কত শতাংশ, জানাল জরিপ সংস্থা

বহিষ্কার ও গণপদত্যাগে সংকটে মুন্সীগঞ্জ বিএনপি

নির্বাচন উপলক্ষে নেপালকে দ্বিতীয় দফায় ২৫০ গাড়ি দিল ভারত

ওয়ারী পাস্তা ক্লাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধসহ আহত ৮

‘মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা ফ্রি করবে জামায়াত’

শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপি নেতা মাহাবুবের জামায়াতে যোগদান

আগামীর জন্য বিনিয়োগ : সিঙ্গার বাংলাদেশের নতুন যুগ

মদিনায় ২১ লাখ বৃক্ষরোপণ করল সৌদি সরকার

এবার নিশিরাতে নির্বাচন করতে দেব না : তারেক রহমান

১০

ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার, গৃহকর্মী পলাতক

১১

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ : হাবিব

১২

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’

১৩

পিটিয়ে মানুষ হত্যাকারীদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয় : গোলাম পরওয়ার

১৪

প্রেমিক বিবাহিত, সন্তানও আছে! গোপন তথ্য ফাঁস করল চ্যাটজিপিটি

১৫

টেলিগ্রামে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারকারী গ্রেপ্তার

১৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

১৭

নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তি খাতে বছরে ৪০ হাজার কর্মীর চাহিদা, সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

১৮

ইরানে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আজারবাইজান

১৯

‘বি’ ইউনিটের মাধ্যমে শেষ জবির ভর্তি পরীক্ষা

২০
X