চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

১৫ মাস পর কালুরঘাট সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু

যান চলাচল শুরু হয়েছে শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুতে। ছবি : কালবেলা
যান চলাচল শুরু হয়েছে শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুতে। ছবি : কালবেলা

দীর্ঘ ১৫ মাস সংস্কারকাজ শেষে পরীক্ষামূলকভাবে শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটল। কালুরঘাট সেতু দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়ার মানুষ চট্টগ্রাম শহরে আসা-যাওয়া করেন।

রোববার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। সেতুতে প্রথমবারের মতো ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কালুরঘাট সেতুতে যান চলাচলে আপাতত কোনো টোল রাখছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সর্বোচ্চ ৮ ফুট উচ্চতার সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। তবে চলতে পারবে না ট্রাক-বাসের মতো ভারী যান।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা সংস্কার কাজ পরিদর্শনকালে কিছু পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে, রাতে সেতুতে যান চলাচল যেন বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে লাইট রিফ্লেকটিং রং ব্যবহার, পর্যাপ্ত বাতির ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, টোল ছাড়াই আপাতত যানবাহন চলাচলের জন্য কালুরঘাট সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে বুয়েটের পরামর্শ অনুযায়ী সেতু দিয়ে বড় ট্রাক ও বাস চলাচল করতে পারবে না। ভূ-সম্পত্তি বিভাগ শিগগিরই রেলসেতু দিয়ে চলা যানবাহন থেকে টোল আদায়ে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করবে।

৯০ বছরের পুরোনো এ সেতুর সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১ আগস্ট। প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে সম্প্রতি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর কালুরঘাট সেতুর সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন বুয়েটের তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। তারা সংস্কারকাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান পরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যান চলাচলের জন্য সেতু চালু করে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

মূলত দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে আসার পরও নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় পুরাতন কালুরঘাট সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে নির্মিত কালুরঘাট সেতুটি বহু আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। বুয়েটের পরামর্শে সেতুটি সংস্কার করা হয়। ভারী ও দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল করতে সেতুর পিয়ারগুলোর নদীর পানির নিচে প্রায় ৬০ হাজার জিও ব্যাগের মাধ্যমে বালি ফেলাসহ মানুষের যাতায়াতে ওয়াকওয়ে এবং রেলপথের ওপর সড়ক কার্পেটিং এ বিশেষ নকশা প্রণয়ন করে রেলওয়ে। নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নের কারণে একমুখী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

কালুরঘাট সেতু দিয়ে বর্তমানে কক্সবাজার পর্যন্ত দৈনিক তিন জোড়া ট্রেন ও দোহাজারী পাওয়ার প্ল্যান্টের জ্বালানিবাহী ট্রেন চলাচল করে। তবে কালুরঘাট সেতু সংস্কার ও কর্ণফুলী নদীতে নতুন সেতু নির্মাণের পর এই রুটে দৈনিক ২৩ জোড়া ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী জানুয়ানিতে চালু হওয়া রেলওয়ের ওয়ার্কিং টাইম টেবিলে কক্সবাজার পর্যন্ত আপাতত আরও কয়েকটি ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তালা ঝুলছে চট্টগ্রাম মোবাইল মার্কেটে

হকার-দোকানদার সংঘর্ষে কিশোরগঞ্জে শাটডাউন, প্রধান সড়ক অবরোধ

জবিতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

হাসপাতালে দালাল চক্রের ৯ সদস্য আটক, অতঃপর...

‘কামালকে প্রত্যর্পণের অফিসিয়াল তথ্য নেই’

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৩৬

দেশে সরকারি ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু

গুগল ক্রোমে এলো আকর্ষণীয় ফিচার, যে সুবিধা পাবেন

ঢাবিতে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল

সাতক্ষীরায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি

১০

সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ

১১

বিরোধী দল ছাড়াই নির্বাচনের আয়োজন করছে কিরগিজস্তান

১২

শুরু হলো বিপিএলের নিলাম, মোবাইলে দেখবেন যেভাবে

১৩

নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি বিপিএলের নিলাম

১৪

একযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫০ নেতার পদত্যাগ

১৫

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা / ফিরতে চাইলে একদিনের মধ্যে ট্রাভেল পাস পাবেন তারেক রহমান

১৬

১১ পদের দশটিতেই বিএনপির জয়

১৭

‘বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি’

১৮

মাঝ আকাশে দুই বিমানের সংঘর্ষ

১৯

প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ চালুর সিদ্ধান্ত বিসিবির

২০
X