দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় এই প্রবালদ্বীপ। কিন্তু এখানকার জনসাধারণ ও পর্যটকরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্বীপে একটি হাসপাতাল থাকলেও নিয়মিত ডাক্তার না থাকায় তারা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। নামেমাত্র ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল রয়েছে। সুন্দর অবকাঠামোর ওপর যা কেবল দাঁড়িয়েই আছে।
গত ১ সপ্তাহ ধরে সেন্টমার্টিন হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ পাচ্ছেন না দ্বীপের স্থানীয় ১০ হাজার মানুষ।
সোমবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে সরকারি নিয়োগকৃত কোনো ডাক্তার উপস্থিত নেই।
আরও পড়ুন : বর্ষা এলেই বন্ধ থাকে হবিগঞ্জের মাধবপাশা কমিউনিটি ক্লিনিক
অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকারিভাবে কোনো ডাক্তারই সেন্টমার্টিন থাকতে চায় না। বছরের ৪ মাস ডাক্তার থাকলেও বাকি ৮ মাস অভিজ্ঞ ডাক্তার থাকেন না। অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে নন-গভর্ম্যান্ট আরটিএম কর্তৃক মাত্র দুজন ডাক্তার ১০ হাজার মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যা পরিপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল দ্বীপের বাসিন্দারা।
সেবা নিতে আসা রোগীরা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ ছাড়া খালি হাতে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়।
বাচ্চা কোলে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মদিনা বেগমের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাচ্চা কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। হাসপাতালে আসলে ডাক্তার একটা কাগজে কিছু ওষুধ লিখে দিল। আর বলল, এগুলো বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে নিতে।
চিকিৎসা নিতে আসা সানজিদা নামক আরেক মহিলা বলেন, আমার শারীরিক অসুস্থতার কথা ডাক্তারকে বিস্তারিত বুঝিয়ে বললাম আর ডাক্তার আপু ১ পাতা প্যারাসিটামল দিয়ে প্রেসক্রিপশনটা ধরিয়ে দিল। ওষুধ চাওয়ায় বললেন, এত দামি ওষুধ এখানে নাই। বাইরে থেকে কিনে নিতে হবে।
হাসপাতালে রোগীদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না কেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত চিকিৎসক স্মৃতি বলেন, ওষুধ আছে, তবে পরিমাণ মতো নেই। গত কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন। তা ছাড়া এই সপ্তাহে ডায়রিয়া ও অ্যালার্জির রোগী বেশি হওয়ায় হাসপাতালে হঠাৎ মেডিসিন সংকট হয়ে পড়ে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে ওয়েদার খারাপ। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলছে, যোগাযোগ বিছিন্ন। ঊর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে খুব শিগগিরই পর্যাপ্ত মেডিসিন সেন্টমার্টিন আনার ব্যবস্থা করা হবে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রবীণ মুরব্বি আজম আলী বলেন, ‘হাসপাতালটি বানানোর পর থেকে ডাক্তারও থাকে না, ভালো করে ওষুধও পাওয়া যায় না।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল কাশেম বলেন, সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ সামগ্রী পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন