রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চা খেতে ২৫ হাজার নেন ইউএনওর অফিস সহকারী রায়হান

অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. রায়হান মিয়া। ছবি : সংগৃহীত
অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. রায়হান মিয়া। ছবি : সংগৃহীত

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. রায়হান মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি নিজেই ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাতাসন লতিবপুর গ্রামের মৃত রজব উদ্দিনের স্ত্রী কহিনুর বেগম ও তার ছেলের স্ত্রী বানেছা বেগম আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ চেয়ে গত ১০ আগস্ট ২০২৩ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দুটি আবেদন করেন। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ মিঠাপুকুর ইউএনও অফিস সহকারী রায়হান ভুক্তভোগী বিধবা কহিনুরের কল দিয়ে আবেদন খরচের কথা বলে দুই দফায় ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরে কহিনুর ও বানেছা বেগম ঘর বরাদ্দ পেয়েছে এই কথা জানিয়ে দুই দফায় আরও ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। এতে মোট ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে রায়হান।

এ দিকে দীর্ঘদিন পর উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের ভক্তিপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পায় বিধবা কহিনুর বেওয়া (৭০)। কিন্তু ঘরে উঠার আগেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আশপাশের স্থানীয়রা ঘর দখল করে নেওয়ায় ঘরে উঠতে পারেননি এই বিধবা। একদিকে সুদ কারবারির কাছে নেওয়া টাকার সুদের চাপ, অন্যদিকে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে উঠতে না পাওয়ায় টাকা ফেরত পেতে চাপ দেওয়ার পর স্থানীয় এক নেতার মধ্যস্থতায় ১৩ হাজার টাকা ফেরত পেলেও বাকি ১২ হাজার টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বিধবা এই বৃদ্ধা নারী।

মিঠাপুকুরের রাণীপুকুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার মেহফুজ আল রেজা বলেন, এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশে রাণীপুকুর ইউনিয়নের ভক্তিপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বৃদ্ধা কহিনুরকে ঘরে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি যাওয়ার পর সেখানে বসবাসকারীরা ঘরে তালা দিয়ে সরে থাকায় অবৈধ বসবাসকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত রায়হান বলেন, আমার অত চাওয়া-পাওয়া নেই। মিঠাপুকুরে এমনও লোক আছে দিনে ১০-২০ হাজার টাকা ইনকাম করে। আমি তো তার কাছে টাকা চেয়ে নেইনি। ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর ওই মহিলা খুশি হয়ে দুই দফায় বিশ হাজার টাকা চা খাওয়ার জন্য দিয়েছিল। আমি কাজ করে দেই, এজন্য অনেকে খুশি হয়ে এক-দুই হাজার টাকা এমনি দেয়।

তিনি বলেন, ২৫ হাজার টাকা নেইনি। ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর ওই মহিলা খুশি হয়ে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিল চা খাওয়ার জন্য। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তো একটা করে ঘরের জন্য ৩০-৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। ওই মহিলা ঘরে উঠতে না পারায় স্থানীয় এক নেতার মধ্যস্থতায় ১৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। তার সঙ্গে আমার আর কোনো ঝামেলা নেই।

মিঠাপুকুরের ইউএনও বিকাশ চন্দ্র বর্মণকে ফোন করলে তিনি কালবেলাকে বলেন, আমি পরিদর্শনে আছি। আপনি অফিসে আসেন, এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার ইরানের পিক্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

বুধবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা

৫২৭ কোটি টাকার স্থায়ী বাঁধে দেড় মাসেই ধস

কমছে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি

জাপানে রীতিমতো বিধ্বস্ত রণবীরের ‘ধুরন্ধর ২’

বিশ্লেষণ / কীভাবে পারমাণবিক কর্মসূচির বদলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল হরমুজ প্রণালি

প্রধানমন্ত্রী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাবিতে তারেক রহমান 

মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা

হরমুজে তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত

কুমিল্লায় বাড়ছে যক্ষ্মার ঝুঁকি

১০

এবার ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে মেসি

১১

সরকারি কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধায় কাটছাঁটের উদ্যোগ

১২

ইনস্টাগ্রামে মেসির বার্তা

১৩

৫ দিনেও মিলেনি বিমানবন্দর কর্মকর্তার খোঁজ

১৪

স্বর্ণের দাম কমার পর আজ ভরি কত?

১৫

এটি কোনো প্রতিশোধের ম্যাচ নয়: দেশম 

১৬

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ

১৭

হরমুজে ২০ শতাংশ ফি নেওয়ার ট্রাম্পের পরিকল্পনা মানছে না আইএমও

১৮

নিজ বাসা থেকে মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৯

চার বছরের শান্তির অবসান / সৌদিতে হুতিদের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

২০
X