ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৫, ০৩:১৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরে মাজারে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

মাজারের বিভিন্ন অবকাঠামো ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি : কালবেলা
মাজারের বিভিন্ন অবকাঠামো ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি : কালবেলা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় তিন দিনব্যাপী ওরস আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যে একটি মাজারে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে চলে ভাঙচুর ও লুটপাট। এর আগে বিকেলে সীরাতে মুস্তাকিম পরিষদ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে লাঠিমিছিলের কর্মসূচি পালনকালে এ ঘটনা ঘটে।

‘রহিম শাহ বাবা ভান্ডারী মাজার’ নামের এ মাজারটি উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের বিরাহীমপুর গুচ্ছগ্রামে অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ২ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত মাজারে বার্ষিক ওরস হওয়ার কথা ছিল। এজন্য মাজারের সামনে মঞ্চ ও বড় তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের জন্য শামিয়ানা দিয়ে তিনটি প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছিল।

এদিকে মাজারের ওরস ঠেকাতে পূর্ববর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে সিরাতে মুস্তাকিম পরিষদের ব্যানারে কয়েক হাজার লোকজন লাঠি হাতে মিছিল বের করেন। মিছিলটি মাজারের সামনে পৌঁছালে আশেপাশের আরও কয়েক গ্রামের মানুষ মিছিলে অংশ নিয়ে মাজারে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় মাজারের বিভিন্ন আসবাব, ঘরের টিন ও দেয়ালের ইট খুলে ফেলে হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ লোকজন বিভিন্ন স্লোগান দেন। তৌহিদি জনতা আগুন দিয়ে মাজারের চারপাশ ঘিরে অবস্থান নেওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেতে পারেননি। ভাঙচুরকারীদের অভিযোগ, মাজারটিতে গানবাজনা, মাদক সেবন ও অশ্লীল কর্মকাণ্ড চালানো হতো।

স্থানীয় জনতা ও সিরাতে মুস্তাকিম পরিষদ সদস্যদের অভিযোগ, ওরসের নামে বিদাত ও শিরক করা হয় ওই মাজারে। তারা তাদের পীরকে খোদা মনে করে, কথিত পীরকে সরাসরি সিজদা করেন। তারা মোমবাতি জ্বালিয়ে অগ্নি পূজার মতো করে পূজা করেন। মাজারের লোকজন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ঢোল, তবলা ও হরেকরকম বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে গান, বাজনা ও জিকির করেন। প্রতি বছর ১৮ ফাল্গুন ওরসের নামে নারী-পুরুষ একত্রে হয়ে ভণ্ডামি ও মাদক সেবন করেন। এ ছাড়া মাজার প্রাঙ্গণে নামাজ পড়ার জন্য কোনো মসজিদ নেই। মুসলমান হয়ে তারা কোরআন ও ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ করতেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মাজার কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক কালবেলাকে বলেন, বিরাহীমপুর গুচ্ছগ্রামে মাজারে তৌহিদি জনতা হামলার পর আগুন দিয়েছে। তৌহিদি জনতার মধ্যে চরম উত্তেজনা থাকায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। পরে রাত ১০টার দিকে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জব্দ করা সুপারট্যাংকার ছেড়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

নির্বাচন থেকে সততা পালিয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল

দুটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক চায় না জামায়াত

পৈতৃক ভিটায় ফিরছেন তারেক রহমান, সন্তানকে বরণে প্রস্তুত বগুড়া

সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

রাজশাহীতে পৌঁছেছেন তারেক রহমান

মির্জা আব্বাসের ধৈর্য দেখে বাবার কথা মনে পড়ে: ফারিয়া

বাসে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু জামায়াতের

বিএনপির জনসভায় জনস্রোত, মিছিল-স্লোগানে উত্তাল রাজশাহী

১০

রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর, অভিযোগ গুরুতর

১১

অবৈধ অস্ত্রসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

১২

সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো সুপার বোর্ড পার্টনার্স ফেস্টিভ্যাল

১৩

কঠিন শর্তের বেড়াজালে দীপিকা; ‘কল্কি’র সিক্যুয়েলে থাকছেন সাই পল্লবী!

১৪

আলজাজিরাকে ডা. শফিক / নারীরা কখনো জামায়াতের প্রধান হতে পারবেন না

১৫

নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে প্রশাসন ব্যর্থ : খেলাফত মজলিস

১৬

পঞ্চগড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ

১৭

জাহাজ বিল্ডিংয়ে জঙ্গি নাটক / শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

১৮

জাতিসংঘের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল, ১১ দেশের নিন্দা

১৯

জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

২০
X