নতুন আগ্রাসনের 'আরও কঠোর জবাব' দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি বলেন, তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল আক্রমণ করলে "আরও ভয়াবহ" প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উপলক্ষে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই এসব কথা বলেন। খবর পার্স টুডের।
জেনারেল হাতামি আরও বলেন, ১৯৮০ থেকে ৮৮ সালে ইরাকি আরোপিত যুদ্ধ এবং জুনে ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের সময় প্রতিরক্ষা খাতে ইরানের অগ্রগতি শীর্ষে পৌঁছেছিল। যার ফলে বিশ্ব ইরানের জনগণের শক্তি এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা ক্ষমতা দেখেছে। তিনি বলেন, আজও ইরানের সেনাবাহিনী অতীতের মতোই যে কোনো আক্রমণকারীকে শাস্তি দিতে এবং তার প্রতি আরও চূর্ণ-বিচূর্ণ ও অনুশোচনাপ্রসূত জবাব দেওয়ার জন্য শক্তি ও সংকল্পের সঙ্গে প্রস্তুত।
এদিকে উত্তর ভারত মহাসাগর ও ওমান সাগরে ইরানের নৌবাহিনী তাদের সর্বশেষ সামরিক মহড়া ‘ইকতেদার ১৪০৪’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দুই দিনব্যাপী এই মহড়ায় ইরান উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন নৌ ক্রুজ এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা ভূপৃষ্ঠ ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। মহড়ার মূল পর্বে গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ‘জেনেভেহ’ এবং ডেস্ট্রয়ার ‘সাবালান’ থেকে একযোগে ছোড়া হয় ‘নাসির’, ‘গাদির’ এবং ‘কাদের’ নামের বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপৃষ্ঠ এবং জাহাজের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে।এই মহড়ায় ব্যবহার করা হয়েছে ভূপৃষ্ঠের জাহাজ, বিমান ইউনিট, উপকূলীয় ও সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিটও। মহড়াটি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও নৌবাহিনীর আধুনিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন