বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৩, ০৮:২০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরে বৃষ্টিতে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি

দিনাজপুরে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি। ছবি : কালবেলা
দিনাজপুরে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি। ছবি : কালবেলা

দিনাজপুরের বিরামপুরে গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন রবিশস্য চাষিরা। বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পটোল, করলা, শসা, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও মরিচসহ বিভিন্ন রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু সবজি ক্ষেতে জমে আছে পানি।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, পটোল, করলা, শসা ও মরিচ ক্ষেতে কিছুদিন পানি জমে থাকলে এসব ফসলের গাছ লালচে হয়ে পচে যায়। শুরুতে মরিচের দাম অনেকে ভালো পেলেও, কেউ কেউ দেরিতে গাছ লাগানোর কারণে অতিরিক্ত খরা এবং বৃষ্টির পানিতে গাছ মরে যাচ্ছে। এতে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছেন, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে রবিশস্যের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে পানি কমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না।

সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫শ’ হেক্টর জমিতে রবিশস্য লাগানো হয়েছে।

সোমবার (২১ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার ভেলারপাড়া জোতবানী, কাটলা, মাহমুদপুর, কলেজপাড়া, শান্তিমোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকায় বেশ কিছু রবিশস্যের ক্ষেত ডুবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার অধিকাংশ নিচু ক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে, এসব জমিতে আমন ধানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু ক্ষেতে করলা, পটোল ও শসাগাছ লালচে রঙ হয়ে পচন ধরেছে।

পৌর এলাকার শান্তিমোড়ের কৃষক আব্দুল রফিক বলেন, ১ বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছিলাম গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর আবার প্রচণ্ড গরমে করলা গাছ লালচে হয়ে মরে গেছে। ১৫ শতাংশ জমিতে শসাগাছ লাগিয়েছি। জমিতে পানি জমে সেগুলোরও ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার ভেলারপাড়ের হালিম মন্ডল জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন মাত্র ১০ হাজার টাকার বেগুন। এখন বেগুনে পোকা ধরেছে। এবং গাছ মরে যেতে শুরু করছে। গাছ মরার কারণ হিসেবে তিনি অতি বৃষ্টি ও অতি খরার কথা উল্লেখ করেন।

কাটলা গ্রামের কৃষক মাহাবুর রহমান বলেন, ১৫ শতক জমিতে পটোল, ৮ শতক জমিতে করলা ও ৫ শতক জমিতে মরিচ চাষ করেছি। মরিচের গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে বাকি ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ভগবতিপুর গ্রামের কৃষক নবীনুর বলেন, এক বিঘা জমিতে শসা এবং করলা গাছ লাগিয়েছি। গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির ফলে হলদে রঙ হয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। লাভের পরিবর্তে এবার লোকসান গুনতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির কারণে রবিশস্যের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। সারাদেশেই একই অবস্থা। তবে গাছের গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে, সে দিকটা লক্ষ্য রাখতে হবে। জমিতে ফেরোমেন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদসহ জৈব বালাইনাশকের প্রতিগুরুত্ব গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে পার্চিং পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্ত পাতা, কান্ড এবং ফল কেটে ফেলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

‘নাক টিপলে দুধ বের হয় পাটওয়ারীর, আবার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে’

দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে চান না ট্রাম্প

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোজাম্মেল হক

ওয়াশিংটনে গেলেন নেতানিয়াহু

ইতিহাসের এই দিনে

আজকের নামাজের সময়সূচি

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জায়গা নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে নিয়োগ, সপ্তাহে ২দিন ছুটি

সিলেটে গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩

১০

হরমুজ প্রণালির জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি, অভিযোগ ইরানের

১১

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১২

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

১৩

মানবদেহ সম্পর্কে ১০ বিস্ময়কর তথ্য, যা জানলে অবাক হবেন আপনিও

১৪

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক, তদন্তের মুখে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

১৫

রয়টার্স/ইপসসের জরিপ / ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক

১৬

দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার

১৭

বিক্ষোভে এআই নজরদারি, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

১৮

মাতামুহুরীতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

১৯

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: আবদুল আউয়াল মিন্টু

২০
X