ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কীর সন্দেশ জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এতে খুশি সন্দেশ কারিগর স্থানীয়রা।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় পেটেন্টে, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ অনুষ্ঠানে জামুর্কীর সন্দেশ জিআই সনদ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হকের হাতে স্বীকৃতি সনদ হস্তান্তর করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
জানা যায়, জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কীতে প্রথমে কালিদাস সন্দেশের ব্যবসা শুরু করেন। এই সন্দেশ স্থানীয়ভাবে কালিদাসের সন্দেশ হিসেবে প্রসিদ্ধ লাভ করে। সন্দেশের গুণগত মান বজায় রাখায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এই সন্দেশের খ্যাতি ভারতের কলকাতাসহ উপমহাদেশে পরিচিতি পায়।
প্রায় শত বছর ধরে এই সন্দেশ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। কালিদাস না থাকলেও কালিদাসের সন্দেশ হিসেবে এক নামে সবাই চেনে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার জামুর্কী নামক স্থানে সাদামাটা ভাবে স্থাপিত সন্দেশের দোকান সাজানো রয়েছে। হাসড়কের সংলগ্ন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ খুব সহজেই এই সন্দেশ কিনতে পারে। কালিদাসের এই সন্দেশের দোকানটি পরিচালনা করেন কালিদাসের নাতি সমর সাহা। এর আগে তার বাবাও এই দোকান পরিচালনা করতেন।
জামুকী পাকুল্যা গ্রামের বাসিন্দা উজ্জল সরকার বলেন, আমাদের এলাকার পণ্য জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। এই স্বীকৃতিতে বর্তমান সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
নাটিয়া পাড়ার মনির বলেন, আমাদের এলাকার সন্দেশ জিআই পণ্য হওয়াতে আমরা আনন্দিত। তবে জিআই পণ্য হওয়াতে সন্দেশ কারিগরদের লক্ষ রাখতে হবে সন্দেশের গুণগত মান যাতে ধরে রাখতে পারে। সেই সঙ্গে সব শ্রেণির মানুষ সন্দেশ কেনার জন্য ক্রয় ক্ষমতার নাগালে থাকে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আরিফুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের চেষ্টায় মির্জাপুর বাসীর চাওয়াকে সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা এই এলাকার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শরীফা হক কালবেলাকে বলেন, আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জিআই সনদ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে আমাদের কাজ হবে টেকসই উন্নয়ন ও সন্দেশ এর গুণগতমান ধরে রাখতে। সেই সঙ্গে প্রচার এবং প্রসার নিশ্চিত করতে হবে।
মন্তব্য করুন