জামান মৃধা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৩, ০৮:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীতে কাজেই আসছে না শতাধিক বিদ্যালয়ে বসানো বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন

ডিমলার একটি বিদ্যালয়ে বাসানো হয়েছে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন। ছবি : কালবেলা
ডিমলার একটি বিদ্যালয়ে বাসানো হয়েছে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন। ছবি : কালবেলা

অনেক প্রচার প্রচারণা করে সারা দেশের ন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এসব মেশিন এখন আর কোনো কাজেই আসছে না। স্থাপনের কয়েক মাস যেতে না যেতেই বেশিরভাগ মেশিন অকেজো হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বিবেচনা করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দ থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ের নির্দেশনা ছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই মেশিন নষ্ট হতে শুরু করে। যদিও নষ্ট মেশিন মেরামত করা হয়নি এখনো। এভাবে অনেক বিদ্যালয়ের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

অবাক করার বিষয় হলো, এসব মেশিন স্থাপনে ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হলেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যয় দেখানো হয়েছে দ্বিগুণ। আবার কেউ ইচ্ছা করেই এসব মেশিন ব্যবহার করছেন না। এ ছাড়া অনেক স্কুলের শিক্ষক এই মেশিনের ব্যবহার পর্যন্ত জানেন না। অপরদিকে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে এখনও বসানো হয়নি বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমারের পছন্দের প্রতিষ্ঠান থেকে এসব মেশিন কেনা হয়। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ড থেকে চেকের মাধ্যমে মেশিন কেনার টাকা কোম্পানিকে পরিশোধ করে। এসব মেশিন ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকায় কেনা হয়। যদিও বাজারে এ মেশিনের মূল্য ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার বেশি নয়। নিয়ম রয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার যাচাই করে নিজেদের পছন্দমতো সাশ্রয়ী মূল্যে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কিনে বিদ্যালয়ে স্থাপন করবেন। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে মেশিন ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা নেই। সরকারি এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেনা এসব মেশিন কিছুসংখ্যক বিদ্যালয়ে চালু হলেও কিছুদিনের মধ্যে তা অকেজো হয়ে পড়ে।

শিক্ষকদের ভাষ্য মতে, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের হাজিরা মেশিন কিনতে বলা হয়েছিল। তখন তারা বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে কিনতে বাধ্য হয়েছিলেন। শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে নির্ধারিত কোম্পানি ও সিন্ডিকেটের নিকট থেকে মেশিন কেনায় বাজার যাচাইবাছাইয়ের সুযোগ পায়নি তারা।

ঠাকুরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা স্লিপ ফান্ডের টাকা দিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে হাজিরা মেশিন কিনেছিলাম। কিন্তু সংযোগ না থাকায় ব্যবহার করা হয়নি। মেশিনটি এখন নষ্ট হয়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

ছোটখাতা তিস্তার চর শিশু-কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বলেন, ১৫ হাজার টাকা দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনেছিলাম। মেশিনটি প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে এখনো। একই কথা বলেছেন অন্তত ২০-২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী স্বাধীন সরকার বলেন, তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের মাধ্যমে ডিমলা উপজেলায় ১৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন সরবরাহ করেছি। প্রতিটি মেশিনের দাম ৮ হাজার টাকা অন্যান্য খরচ (সিম, সফটওয়্যার ও সংযোগ) বাবদ ধরা হয়েছিল ২ হাজার। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী আমাকে এ টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকদের হাজিরা মেশিন কেনার নির্দেশনা দিয়েছিলাম। তারা কার নিকট থেকে কিনেছেন, তা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি জানি না।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শৌচাগারে সিগারেট ধরানোর সময় বিস্ফোরণ, কলেজছাত্রের মৃত্যু

ভেড়ামারায় সাপের কামড়ে স্বামীর মৃত্যুতে পাগলপ্রায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

থানায় সেবা নিতে এসে কেউ যেন কষ্ট না পায়: আইজিপি

মাইক্রোবাসে আগুন, প্রাণে বাঁচলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সংবাদকর্মীরা

তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ময়মনসিংহে আবারও ট্রেন লাইনচ্যুত

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

২৫টি এয়ারক্রাফট দিয়ে ২০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

প্রথম ফিউচারনেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬ 

শিক্ষক সংকটে মান হারাচ্ছে তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়

সুরে সুরে মোহাম্মদ রফিকে স্মরণ

১০

আমরা যুদ্ধকে স্বাগত জানাইনি এবং কখনোই জানাব না: ইরানের স্পিকার

১১

সকালের মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১২

যারা মনে করেন ইরানের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয়, তাদের এমন অবস্থানে হতাশ ভান্স

১৩

বন্দর আব্বাসে নতুন করে মার্কিন হামলা, দাবি সেন্টকমের

১৪

ফাইনালে কি নিষিদ্ধ হতে পারেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা, ফিফার নিয়ম কী বলছে?

১৫

বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সেলিম রহমান

১৬

মৌলভীবাজারে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

১৭

বান্দরবানে রথযাত্রা উদযাপন

১৮

নবাবগঞ্জে রথযাত্রা উদযাপিত

১৯

নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

২০
X