আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘এ দেশে একটা চক্র আছে, তারা অন্যায় করলে তাদের গায়ে টোকাও দেওয়া যাবে না। যদি টোকা দেন তাহলে ওই যে তাদের বিদেশি বাবা-মা আছেন, তাদের কাছে গিয়ে লাফালাফি শুরু করবে এবং তাদের কিছু টাকা দিবে আর তাদের দিয়ে চিঠি লেখা শুরু করবে। আর এ দেশে উনাদের কিছু দোষর আছে ৩৪ থেকে ৩৫ জন, উনারা কাগজে স্টেটমেন্ট দিবে উনার বিরুদ্ধে কোনো কিছু করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তারা আজও বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারা সুদখোর, আপনাদের কাছ থেকে সুদ খেয়ে, আপনাদের চুষে, আপনাদের রক্ত শেষ করে দিয়েছে। তারা ওই টাকা দিয়ে বিদেশে গিয়ে কোম্পানি বানিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করে বিদেশি সিনেটরদের চাঁদা দিয়ে চিঠি লেখিয়ে আনে উনার বিরুদ্ধে যেন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। বাংলাদেশে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং আদালতে যেই বিচার হবে, সেই বিচারই সবাইকে মেনে নিতে হবে।’
শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের জাজিয়ারা আশ্রয়ণ প্রকল্পে সনাতন ধর্মাবলম্বী ৫২ জনের গৃহে প্রবেশ ও চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডক্টর ইউনূসকে উদ্দেশ করে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশিরা বলে বাংলাদেশে সঠিক বিচার হয় না।’ এ প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, ‘বিদেশিরা বাংলাদেশকে অপমান করবে তা আমরা সহ্য করব না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে তিন দিনের মধ্যে আমরা ফাঁসি দিতে পারতাম, আমরা কিন্তু তা করি নাই। আইনের প্রত্যেকটি ধাপ অতিক্রম করার পরেই আমরা তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করেছি।’
তিনি বলেন, খুনিরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যা করে, এমনকি ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করে। হত্যা করার পর ইনডেনমিটি আইন করে তারা বলেছে, হত্যার বিচার করা যাবে না। এ রকম কালো আইন বাংলাদেশে আর কখনো হয় নাই। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে। কয়েকজন খুনি ছাড়া সবার বিচারের রায় কার্যকর করে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
ডক্টর ইউনূসের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না। তারপরও অন্য বিষয় নিয়ে বলতে হয়, তিনি গ্রামীণ ফোনের কর ফাঁকি দেওয়ায় তার সাড়ে ১২ কোটি টাকা জরিমানা হয়, আদালতের প্রত্যেকটি ধাপ অতিক্রম করার পর তিনি জরিমানার টাকা জমা দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডক্টর ইউনূসকে গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্স দিয়েছেন। তিনি নরওয়ের টেলিনোরের সঙ্গে শেয়ার ভাগাভাগি করে এ দেশে ব্যবসা করে লাভবান হয়েছেন। ওই লাভের শতকরা পাঁচ টাকা শ্রমিকদের দেওয়ার কথা, কিন্তু তিনি তা দেন নাই। এ নিয়ে শ্রমিকরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কসবা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সনজিব সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া, কসবা পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম হাক্কানী, কসবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ছিদ্দিকা, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল আজিজ, সহসভাপতি কাজী মো. আজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
পরে বিকেলে মন্ত্রী কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
মন্তব্য করুন