জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৩, ১২:৫৫ এএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩, ০১:৩১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

জীবনের নিরাপত্তা চেয়েও প্রাণ হারালেন সাংবাদিক নাদিম‌

নিহত গোলাম রব্বানী নাদিম
নিহত গোলাম রব্বানী নাদিম

তিন মাস আগেও জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হামলার শিকার হয়েছিলেন। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। কিন্তু বাঁচতে পারলেন না। সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ গেল সাংবাদিক নাদিমের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের একটা ভিডিও ক্লিপ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী হাসিনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চাই। আমি স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করতে চাই।’

গত ১১ এপ্রিল বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগমের লোকজন সাংবাদিক নাদিমের ওপর হামলা করেছিল। শাহীনার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় এই হামলার শিকার হন নাদিম।

৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়া একাধিক মুক্তিযোদ্ধার বয়ানের ভিত্তিতেই শাহীনার বাবাকে রাজাকার উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিক নাদিম। সেই হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েও সমঝোতা করেছিলেন তিনি, জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুরোধে।

এরপর সামনে আসে নির্যাতিত সাবিনা ইয়াসমিনের ঘটনা, যিনি সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর দ্বিতীয় স্ত্রী। নির্যাতিত সাবিনার কথা তুলে ধরেন সাংবাদিক নাদিম। তাকে নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ ২০ মে মাহমুদুল আলম বাবুকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন নাদিম। নাদিম ও মুজাহিদ বাবু নামে সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন বাবু। মেরিট না থাকায় সেই মামলা খারিজ করে দেন ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক। বুধবার সেই মামলা খারিজ হলে চার ঘণ্টার মধ্যে নাদিমকে হত্যার উদ্দেশে হামলা করা হয়।

মুজাহিদ বাবুর বক্তব্যে জানা গেছে, অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থেকে সেই হামলার নেতৃত্ব দেয় চেয়ারম্যান বাবু।

নাদিমের শঙ্কা অমূলক ছিল না, তখন তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে হয়তো এরকম ঘটনা ঘটতো না বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকদের।

নাদিমের মৃত্যুর পর তার পরিবারসহ সকল সাংবাদিকদের মধ্যে একটি প্রশ্ন জেগেছে, নিরাপত্তা চেয়েও নিরাপত্তা না পেলে কেউ আর সত্য প্রকাশে সাহস দেখাবেন না।

নাদিমের মৃত্যুর ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, হামলার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রধান অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বাবু ও তার ছেলে গ্রেপ্তার হয়নি। সাংবাদিক নাদিমের পরিবারের সদস্য সহ সাংবাদিক সমাজের দাবি, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের নতুন কমিটি ঘোষণা

আমি কোনো সাংবাদিককে থ্রেট দিতে চাই না : রাশেদ খান

ভোটারদের ‘ব্রেইন হ্যাক’ করার ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি

ইতালিতে ইসলামের পরিচিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লক্ষ্যে ‘ওপেন ডে’ পালন

কত আসনে নির্বাচন করবে জানাল ইসলামী আন্দোলন

তারেক রহমানের সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির

শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ

নির্বাচিত সরকারই স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি : রবিউল

প্রতারক শামীম ওসমান গ্রেপ্তার

রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম

১০

তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় দেশের মানুষ : সালাউদ্দিন বাবু

১১

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১২

স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ, বুধবার থেকে কার্যকর

১৩

বাংলাদেশের পরিবর্তনে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

১৪

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় পাবিপ্রবি পেল ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা

১৫

বিশ্বকাপের আগে ‘মিনি হসপিটাল’ দক্ষিণ আফ্রিকা

১৬

বিশ্বকাপে কঠিন হলো বাংলাদেশের পথ

১৭

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়ায় দোয়া মাহফিল

১৮

খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই বিএনপি সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে : দিপু

১৯

এলপি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা জ্বালানি উপদেষ্টার

২০
X