মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৬:৩৩ এএম
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৮:১৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দুম্বার সংকর প্রজাতি উদ্ভাবন করলেন মেহেরপুরের খামারি

খামারি আসাদের দুম্বার পাল। ছবি : কালবেলা
খামারি আসাদের দুম্বার পাল। ছবি : কালবেলা

ইউটিউবে সিংহ ও বাঘের সংকর প্রজাতির ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ভেড়ার নতুন এক জাত উদ্ভাবন করেছেন মেহেরপুরের এক খামারি। গাড়ল ও দুম্বার সংকরায়ণের মাধ্যমে তৈরি এই প্রজাতির ওজন, আকৃতি এবং রোগ প্রতিরোধে দেশের প্রচলিত গাড়লের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম বলে দাবি তার।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভোমরদা গ্রামের আসাদুজ্জামান আসাদ নামের এই তরুণ প্রবাস (মালয়েশিয়া) ফেরত। ২০২০ সালে দেশে ফিরে গরুর খামার দিয়ে শুরু করেন কৃষি উদ্যোগ। তবে গোখাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে সে খামার বেশি দিন চালানো সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ছাগল ও গাড়ল পালনে মনোনিবেশ করেন। তুলনামূলক লাভ বেশি হওয়ায় ধীরে ধীরে গাড়লের দিকেই ঝুঁকে পড়েন।

২০২৪ সালের কোরবানির ঈদের আগে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে দুটি দুম্বা পাঁঠা সংগ্রহ করে স্ত্রী গাড়লের সঙ্গে একই পালে পালন শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই গর্ভধারণের পর জন্ম নেয় একটি নতুন ধরনের সংকর বাচ্চা। জন্মের পর থেকেই দেখা যায়, এই প্রজাতির বাচ্চাগুলো সাধারণ গাড়লের তুলনায় বড় আকারের এবং দ্রুত ওজন বাড়ে। নতুন প্রজাতির বাচ্চার লেজ তুলনামূলক ছোট হচ্ছে। সামনে থেকে দেখতে গাড়লের মতো লাগলেও কান এবং পেছনের দিকটা সম্পূর্ণ দুম্বার মতো।

আসাদের খামারে দেখা যায়, একটি সাধারণ গাড়লের ছয় মাস বয়সী বাচ্চা গড়ে ১২ থেকে ১৫ কেজি ওজনের হয়। সেখানে এই সংকর প্রজাতির ওজন ছয় মাসে পৌঁছে যাচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ কেজিতে। শুধু তাই নয়, এই প্রাণীগুলো বৃষ্টিতে ভিজেও সহজে অসুস্থ হচ্ছে না। জলাবদ্ধ এলাকায়ও স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকতে পারছে।

খামারি আসাদ কালবেলাকে বলেন, এ পর্যন্ত ৪০টির মতো সংকর বাচ্চা বিক্রি করেছি। আমার খামারে এখন ৮০টি নারী গাড়লের সঙ্গে নিয়মিত সংকর প্রজনন চলছে। আমি বিশ্বাস করি, এই সংকর প্রজাতি দেশে নতুন এক শিল্প তৈরি করতে পারে।

গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কালবেলাকে, মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে এই সংকর ভেড়াগুলোর মাংস উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো জাতীয় নীতিমালা নেই, সরকারিভাবেও কোনো গবেষণা শুরু হয়নি। এজন্য আমরা কোনো খামারিকে গাড়ল ও দুম্বার সংকরায়ণ করতে নিরুৎসাহিত করছি না।

জেলার পশুপালনকারীদের মতে, এ ধরনের সংকরায়ণ টেকসই হলে তা হতে পারে বাংলাদেশের মাংস উৎপাদন খাতে একটি নতুন দিগন্ত। তবে এর জন্য প্রয়োজন দ্রুত গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা।

প্রায় ২০ বছর আগে দেশি ভেড়ার সঙ্গে কাশ্মীরি প্রজাতির ভেড়ার সংকরায়ণে যে জাতের উদ্ভব হয়েছিল সেটি গাড়ল নামে বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষে স্বীকৃতি পেয়েছে।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেলুচিস্তানে পাক বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ৩

বিদ্রোহীদের ২০৫ যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি সুদান সেনাবাহিনীর

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অপেক্ষায় অভিভাবকরা

অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসীদের সুখবর দিল ইতালি

লেবাননে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি গড়ছে ইসরায়েল

রোমে রেড অ্যালার্ট জারি, তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছোঁয়ার আশঙ্কা

ছয় মাসে তুরস্কের আকাশপথ ব্যবহার করেছে ১১ লাখের বেশি ফ্লাইট

ডেমরা পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবলের আত্মহত্যা

শনিবার খোলা হতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

কেন ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট?

১০

বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

১১

আজকের আবহাওয়া সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেল

১২

কমছে ধলাই নদীর পানি, ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

১৩

সাগরেই গায়েব ৫৩০ রোহিঙ্গা!

১৪

কলকাতা বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে প্রবেশে বাধা

১৫

চাকরিজীবীদের দুই দফায় টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

১৬

এনসিপির সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

১৭

জিয়াউর রহমান হত্যা / ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার মোজাফফর, কোথায় ছিলেন এতদিন?

১৮

বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৯

শিমুলিয়া ঘাটে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ওপর হামলা

২০
X