ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মার পানি বেড়ে নদীতীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার দুই ইউনিয়নের প্রায় ১২শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন দুর্গতরা।
জানা গেছে, উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১১শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আকোটের চর ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবারের ঘরবাড়ি ও আঙিনায় পানি প্রবেশ করেছে। ফলে নিত্যদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরাও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অপরিপক্ক ফসল ঘরে তুলছেন।
দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুল হালিম বলেন, পানি বাড়তে থাকায় রাস্তাঘাট, স্কুলঘর ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে। গবাদিপশু নিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েক মাসের পরিশ্রমে মাঠের ধান, পাট ও শাকসবজি ঘরে তোলার আগেই পদ্মার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চরম ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। ইতোমধ্যে বহু জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন সরদার বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় ৩০টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে অনেক নিম্নাঞ্চল এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। দুএক দিনের মধ্যে ইউনিয়নের আরও গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার পানি সদরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিন পানি আরও বাড়তে পারে।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীপাড়ের মানুষের নিরাপত্তার কথা ইউপি চেয়ারম্যানদের জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মন্তব্য করুন