বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর শহড়াবাড়ি ঘাট এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া একটি উদ্ধারকারী নৌকা (রেসকিউ বোট) অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন নদীর তীরে পড়ে থেকে নৌকাটির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খোয়া যাচ্ছে, মরিচা ধরেছে লোহার অংশে আর ভাঙাচোরা কেবিনে এখন মাদক সেবনের আসর বসছে স্থানীয় যুবকদের।
ইউএনও অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২২ সালে নৌকাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ দশমিক ৫০ ফুট প্রস্থের নৌকাটি একসঙ্গে ৮০ জন মানুষ বহন করতে সক্ষম এবং ঘণ্টায় ৭ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে পারে।
কিন্তু বরাদ্দের পর থেকে নৌকাটি কার্যত ব্যবহার হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এটি পানিতে ভেসে থাকে আর শুকনো মৌসুমে নদীর তীরে পড়ে থেকে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নৌকাটির ছাউনি নেই, জানালার কাচ ভাঙা, রং বিবর্ণ হয়ে গেছে এবং ইঞ্জিনসহ মূল কাঠামোও অকেজো হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে সরকারের অর্ধকোটি টাকার সম্পদ অযত্নে নষ্ট হচ্ছে। যদি নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো, তবে নৌকাটি দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য বড় সম্পদ হতে পারত।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল কালবেলাকে বলেন, উদ্ধারকারী নৌকাটি সংস্কার করে আবার ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন