

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে দেওয়া আপত্তিকর পোস্টের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ সময় নেতাকর্মীরা নারীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল শুরু ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে শেষ করেন নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে ‘ছাত্রদলের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বট বাহিনীর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভণ্ডদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘নিপীড়কের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘নিপীড়কের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শফিক তুই ক্ষমা চা— নারী নয়, পতিতা’, ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’, এবং ‘দেশের শক্তি অর্ধেক নারী, শফিক তুই জানিস নাকি?’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমাদের এই প্রতিবাদের বক্তব্য হলো, তাকে (জামায়াত আমির) অবশ্যই নারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি ক্ষমা না চান আমরা আবারো বৃহত্তর কোনো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে এই বাংলাদেশে যদি সামান্যতম শক্তি অর্জন করে, এটি শুধুমাত্র নারীসমাজ নয়, এই বাংলাদেশের সবকিছুর জন্য হুমকিস্বরুপ।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, অনেকে বলেন উনার আইডি নাকি হ্যাক হয়েছে, আমরা বলছি উনার মাথা আসলে হ্যাক হয়েছে এবং উনার মুখোশ উনি নিজেই উন্মোচন করেছেন।
জামায়াতের আমির এর আগে তিনবার নির্বাচন করেছেন এবং সবমিলিয়ে ৪১ হাজার ভোট পেয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন দেখেছেন যে তার এলাকার জনগণ তাকে আর গুণেনা, সেজন্য তিনি ঢাকা এসে ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচন করছেন।
এছাড়া বিক্ষোভে বক্তব্য দেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম, ঢাবি কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলাসহ অন্য নেতারা।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করাকে ‘আধুনিক পতিতাবৃত্তি’র সঙ্গে তুলনা করে একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়। পরে তিনি জানান, তার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল। পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করা হয়।
এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তার বিরুদ্ধে যে সব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও মনগড়া।
মন্তব্য করুন