সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মাছের ঘেরে হরেক রঙের তরমুজ

মাচায় ঝুলছে তরমুজ। ছবি : কালবেলা
মাচায় ঝুলছে তরমুজ। ছবি : কালবেলা

দেশের আধুনিক কৃষির সফল উদাহরণ সোনারগাঁয়ের কৃষক রমজান আলী। বিএসএস শেষ করে চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে ২০০৯ সাল থেকে কৃষিতে হাতেখড়ি নেন উপজেলার গৌরবরদী গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রমজান আলী। বাবা কৃষক হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই কৃষিতে আগ্রহী ছিলেন তিনি।

জানা যায়, ২০১৪ সালে ঢাকা বিভাগের প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন তিনি। টমেটো ও চিচিঙ্গা চাষের মাধ্যমে তার এই পদ্ধতির যাত্রা শুরু হয়। এরপর দেশি-বিদেশি সবজি ও ফল চাষেও আগ্রহী হন। বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার করে তিনি আবহাওয়া ও বাজার দর অনুযায়ী আধুনিক চাষে ফসল উৎপাদন করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ বছর গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন রমজান আলী। ৫ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে মাচা ব্যবহার করে কালাচাঁন ও তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করছেন। হলুদ ও কালো রঙের তরমুজ থোকায় ঝুলে আছে। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারে আসবে। পাশাপাশি পুকুরপাড়ে করলা ও লাউও চাষ করেছেন। তিনি স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।

রমজান আলী বলেন, আমি এসএসসি পরীক্ষার আগে থেকেই কৃষিতে আগ্রহী ছিলাম। চ্যালেঞ্জ নেওয়া ভালো লাগে। গতানুগতিক পদ্ধতি ছাড়িয়ে আধুনিক চাষ শুরু করেছি। উন্নত বীজ রোপণ করে ফসল উৎপাদন করি। ইউটিউব ও কৃষি অফিসের পরামর্শে সাফল্য পেয়েছি।

তিনি শীতকালীন টমেটো, ফুলকপি, স্কোয়াশ, শশা, বেগুন, লাউসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করেন। বর্ষাকালে তরমুজ, করলা ও লাউ উৎপাদন করেন। তার উৎপাদিত ফসল যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া কাঁচা বাজার ও ফলের আড়তে বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, চাকরি বা প্রবাসে যাওয়ার চিন্তা না করে কৃষিতে নিয়োজিত হয়েছি। এটি হালাল উপার্জনের একমাত্র স্বাধীন পেশা। আধুনিক কৃষি থেকে মাসে গড়ে ৫০ হাজার টাকা আয় করি। অল্প বিনিয়োগে দ্বিগুণ লাভ সম্ভব।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। অল্প সময়ে কম খরচে বেশি লাভ সম্ভব। প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচে দুই মাসে লাখ টাকার ওপরে আয় করা যায়। মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত রমজান আলীকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা বলেন, রমজান আলী চাষিদের জন্য অনুকরণীয়। তার দেখানো পথে চাষ করলে লাভবান হবেন। আমরা সার, বীজ ও কিটনাশকসহ পরামর্শ দিচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, রমজান আলীর উদ্যোগ আমাদের কৃষির নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। বর্ষাকালে মাচায় তরমুজ চাষ উদ্ভাবনী। অনাবাদি বা জলাবদ্ধ জমি ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেশি, ফলে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন এখন মাদকসেবীদের আঁখড়া

যে কৌশলে বুঝবেন খেজুরের গুড় আসল নাকি নকল

তীব্র শীতে বেড়েছে পিঠার চাহিদা

হাইমচর সমিতির সভাপতি আজাদ, সম্পাদক মাহবুব

আমাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করবেন না : সাংবাদিকদের তারেক রহমান

বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন দেশ, কী হচ্ছে ইরানে

আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরতে চাই না : তারেক রহমান 

‘আমরা রাস্তা চাই না, জমি না থাকলে না খেয়ে মরতে হবে’

বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ায় তারেক রহমানকে ন্যাশনাল লেবার পার্টির অভিনন্দন 

তামিমকে এখনো ‘ভারতের দালাল’ দাবি করে নতুন করে যা জানালেন নাজমুল

১০

ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে ঝগড়ায় প্রাণ গেল মায়ের

১১

অজয় দাশগুপ্তের ৬৭তম জন্মদিন

১২

শোধনাগার বন্ধ, পানি সংকটে ৬০০ পরিবার

১৩

পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে চায় তুরস্ক 

১৪

যেসব লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীর বিরতি চাইছে

১৫

কারাগারে হাজতির মৃত্যু

১৬

শিয়ালের কামড়ে ঘুমন্ত বৃদ্ধার মৃত্যু

১৭

১৯ জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে কতদিন 

১৮

বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল 

১৯

চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

২০
X