

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, বর্তমান দেশের শাসনব্যবস্থায় সংখ্যালঘু, পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় থাকে। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো নাগরিক তার পরিচয় নিয়ে ভীত থাকবে না—গারোর গারো পরিচয় থাকবে, বাংলার বাংলা পরিচয় থাকবে কিন্তু রাষ্ট্র হবে সবার।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার মনিকুড়ায় গ্রামে গারো সম্প্রদায়ের রিছিল মাহারী (গোত্র) মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় বিএনপি সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। গারোসহ সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে আমরা জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখি। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি-নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, যারা প্রান্তিক—তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের রাজনীতি। উন্নয়ন কখনও কারও ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় দেখে করা যায় না। বিএনপি বিশ্বাস করে এ দেশের প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে। গারো সম্প্রদায়ের দীর্ঘকালীন বৈষম্য ও অবহেলা দূর করতে স্থানীয় মতামতের ভিত্তিতেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আমরা বিশেষ উদ্যোগ নেব। পাহাড়ি ও সীমান্তঘেঁষা অনুন্নত এলাকায় পর্যটন, কৃষি, হস্তশিল্প, পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তোলাই হবে বিএনপির লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, আমি এমপি নির্বাচিত হলে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার জনগণের হাতেই ক্ষমতা থাকবে। হলুয়াঘাটের উন্নয়ণ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দল-মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য প্রতি ১০০ দিনে ‘পিপলস পার্লামেন্ট’ বসিয়ে মতামত নেওয়া হবে। সর্ব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
গারো সম্প্রদায়ের উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তাদের শিক্ষা, ধর্ম, সংস্কৃতি চর্চ্চায় পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। প্রতিষ্ঠানগত উন্নয়নে পদক্ষেপ ও তাদের এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ, কর্ম সংস্থান, পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা হবে করা হবে। তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য পরিচিত করতে সাংস্কৃতিক একাডেমিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল এবং পৃথক জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। এমপি নির্বাচিত হলে সরকারি উদ্যোগে বড় দিন পুনর্মিলনী, ইস্টার সানডে, ওয়ানগালা উৎসব উদযাপন হবে।
আশুতোষ রিছিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, পাল পুরোহিত মনিন্দ্র এম চিরান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অনুরোধ চিসিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্রাট রিছিল, পীযূষ রিছিল, লিটন রিছিল, সিলেপটিন রিছিল, রেভারেন্ট সাজেস্ট রিছিল, রেভারেস্ট অজয় রিছিল, সমর স্টিফেন সাংমা, শিবা রিছিল এবং হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশসহ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন