

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঈনের বিরুদ্ধে থানা হেফাজতে রেখে এক তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর রুহিয়া থানার রাজাগাও ইউনিয়নের এক তরুণের সঙ্গে আটোয়ারী উপজেলার ভুক্তভোগী তরুণীর বিয়ে হয়। উভয়ের পরিবারের অমতে বিয়ে করায় তরুণ-তরুণী দুজনে পালিয়ে যান। তরুণীর বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। অন্যের অটোরিকশা ভাড়ায় চালাতেন তিনি।
পালিয়ে যাওয়ায় তরুণের বাবা তরুণীর বাবার নামের আটোয়ারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আটোয়ারী থানার এসআই মঈন ও তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ২১ অক্টোবর তরুণীর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে ছেলে-মেয়েদের খোঁজ না পেয়ে তার বাবাকে থানায় এসে দেখা করতে বলা হয়।
২২ অক্টোবর তরুণীর বাবা থানায় এসআই মঈনের সঙ্গে দেখা করতে আসলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও অশালীন কথাবার্তা বলেন। এ সময় এসআই মঈন বলেন, আমরা ফোর্স নিয়ে তোমাদের বাসায় গিয়েছি, আমাদের তেল খরচ দাও। এক পর্যায়ে এসআই মঈন তরুণীর বাবার অটোরিকশার চাবি নিয়ে বলেন, তেল খরচ বাবদ তিন হাজার টাকা না দিলে চাবি দেব না। পরে তোড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানান। তখন মনোয়ার হোসেন ও তরুণীর বাবাসহ থানায় এসে গাড়ি ফেরত চাইলেও রাজি হননি। পরে তিন হাজার টাকা দিয়ে গাড়িটি ছাড়িয়ে নেন।
এর কিছুদিন পর পালিয়ে থাকা তরুণ-তরুণীর সন্ধান পায় পুলিশ। ঠাকুরগাঁও থেকে তাদের আটক করে আটোয়ারী থানায় নেওয়া হয়। পথিমধ্যে তরুণকে ছেড়ে দিলেও তরুণীকে থানা হেফাজতে নেয় এসআই মঈন।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, গাড়িতে করে ঠাকুরগাঁও থেকে আমাদের নিয়ে আসে। আসার সময় পথিমধ্যে স্বামীকে ছেড়ে দেয় এসআই মঈন। তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর এসআই মঈন আমার সঙ্গে খুব খারাপ ভাষায় কথা বলা শুরু করে। বিভিন্ন অশ্রাব্য ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করেন তিনি। এক পর্যায়ে এসআই মঈন অন্য পুলিশদের বলে, এই তোমরা এখান থেকে সবাই চলে যাও...।
তিনি আরও জানান, থানায় নিয়ে এসে এক রাত একদিন হাজতে রাখা হয়। হাজতে থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে বিভিন্ন সময় আমাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করতেন তিনি। আমি অসহায় ছিলাম বলে সবকিছু নীরবে সহ্য করেছি।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বলেন, মেয়েকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে আমাকে ফোন করে থানায় যেতে বলা হয়। এরপর মেয়েকে ছাড়িয়ে নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই মঈন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের থানায় বসিয়ে রাখা হয়। আমরা অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনোভাবেই টাকা ছাড়া মেয়েকে ছেড়ে দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। তারপর আমার পরিচিত সাংবাদিক কামরুজ্জামান সাঈদকে বিষয়টি অবগত করি। তিনি এসে এসআই মঈনকে অনেক অনুরোধ করেন। তারপর সন্ধ্যার সময় আমাদেরসহ মেয়েকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঈন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা বলছেন সেগুলোর কি কোনো প্রমাণ আছে? আমি এসব ধরনের কোনো কাজ বা কথাবার্তা বলিনি।
পঞ্চগড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি অবগত হয়েছি। সঠিক তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন