রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২০ এএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

গভীর নলকূপে ছেলে, রাতভর অপেক্ষার পর যা বললেন মা

শিশু সাজিদের অপেক্ষায় তার মা। ছবি : কালবেলা
শিশু সাজিদের অপেক্ষায় তার মা। ছবি : কালবেলা

কুয়াশায় ঢেকে থাকা শীতের রাত। আর সেই রাতেই রাজশাহীর তানোরের কয়েলের হাট মধ্যপাড়ায় এলাকায় শিশু সাজিদকে একনজর দেখতে রাতভর মা রুনা বেগমের দীর্ঘ অপেক্ষা।

দুই বছরের ছোট্ট শিশু সাজিদ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর একটার দিকে মায়ের পেছন পেছন হাঁটতেই ছোট্ট শিশু সাজিদ হঠাৎ পড়ে গেল পরিত্যক্ত একটি টিউবওয়েলের ৪০ ফুট গর্তে।

এরপর বিকেল, তারপর সন্ধ্যা। পরে রাত পেরিয়ে সকাল। এরপরেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি শিশুর ছোট্ট ছোট্ট সাজিদকে। অন্ধকার, ঠান্ডা আর শ্বাসরুদ্ধকর সেই গর্তে আটকে রইল কোমল প্রাণটি।

ঘটনার পরই ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের একের পর এক ইউনিট। তিনটি ভেকু মেশিন। পাঁচটি উদ্ধার ইউনিট। মানুষের ঢল। টানটান উত্তেজনা। রাতভর হিমশীতল বাতাসে থমকে থাকা অপেক্ষা।

রাজশাহীর তানোরে দুই বছরের শিশু সাজিদ পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়ার ১৯ ঘণ্টায়ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে শিশুটি যে গর্তের মধ্যে পড়ে যায় সেদিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। তবে এখনো সাজিদের দেখা মেলেনি।

ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতার প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি সরানো ছাড়া শিশু সাজিদকে উদ্ধার সম্ভব হচ্ছিল না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছোট্ট সাজিদকে উদ্ধারে এক্সকাভেটরের খোঁজ করা হচ্ছিল। কিন্তু উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এক্সকাভেটর পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি পুরো তানোর উপজেলায় খোঁজ করেও কোন এক্সকাভেটর পাওয়া যায়নি। অবশেষে রাত ৮টার দিকে পাশের উপজেলা মোহনপুর থেকে ছোট্ট দুটি এক্সকাভেটর এনে মাটি খনন কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় ৪০ ফুট গর্ত করা শেষ হয়। এরপর সেই গর্ত থেকে শিশুটি যে গর্তের মধ্যে পড়ে যায় সেদিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা থেকে সেই সুড়ঙ্গ খোঁড়া চলছে তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির দেখা মেলেনি।

সবসময় সবার সামনে বসে ছিলেন একজন মা রুনা বেগম। কাঁপা হাতে আঁকড়ে ধরে ছিলেন ওঠানামা করা আশা-নিরাশার স্রোত। চোখে নিদ্রাহীনতা, মুখে অসহায়তা, আর বুক ভরা আতঙ্ক।

ছেলের জন্য রাতভর অপেক্ষার পর রুনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের প্রচণ্ড জ্বর ছিল। দাদার সঙ্গে হাটখোলায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু জ্বর থাকায় দাদা নিয়ে যায়নি। সকালে আমি ওষুধ এনে তাকে খাইয়ে দিয়েছি। কে জানত এমন সর্বনাশ অপেক্ষা করছে! আমার অসুস্থ ছেলেটা এখন ৪০ ফুট মাটির নিচে… এই তীব্র শীতে…।’

এতটুকু বলেই কাঁপতে কাঁপতে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন তিনি। প্রতিবার জ্ঞান ফিরেই আবার তাকাচ্ছিলেন সেই গর্তের দিকে—চোখে একমাত্র প্রশ্ন, ‘আমার ছেলেটাকে কি আমি আবার জড়িয়ে ধরতে পারব?’

মায়ের অপেক্ষা, সন্তানের বাঁচার সংগ্রাম, আর মানুষের দোয়া—সব মিলেই রাতটি হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ, নিঃশ্বাস বন্ধ করা প্রতীক্ষার রাত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাজিলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন সংগীতশিল্পী অলিভার ট্রি নিহত

মাঠে নামছে বিশ্বকাপের ফেভারিট স্পেন, কখন-কীভাবে দেখবেন

বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক : আকতারুল

৩০ বছর বয়সের পর ত্বক ও চুল বদলে যায় কেন? আসল কারণ জানুন

গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

নবম পে-স্কেল, বেতন-ভাতায় চূড়ান্ত বরাদ্দ!

পাকিস্তানে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলীয় শিশুর মৃত্যু

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / ‘উধাও’ হওয়া গ্রাহকের ৫ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিল ইসলামী ব্যাংক

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যেসব শীর্ষ নেতাদের হারিয়েছে ইরান 

১০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ‘বড় বিজয়’ ইরানের

১১

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র / প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে শনাক্ত ত্রুটি ‘উদ্বেগজনক নয়’ : এনপিসিবিএল

১২

লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইতালি গেলেই ফেরত পাঠানো হবে

১৩

ভারতের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা

১৪

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া

১৫

বাধ্যতামূলক জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আসছে গণপরিবহন

১৬

প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, আত্মহত্যার হুমকি

১৭

আয়াতের পৃথিবীটা একটি হুইলচেয়ারের অপেক্ষায়

১৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ

১৯

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলন্ত তরুণকে গুলি ও ২ জনকে হত্যা মামলার রায় ২৮ জুন

২০
X