শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩৩
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২০ এএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

গভীর নলকূপে ছেলে, রাতভর অপেক্ষার পর যা বললেন মা

শিশু সাজিদের অপেক্ষায় তার মা। ছবি : কালবেলা
শিশু সাজিদের অপেক্ষায় তার মা। ছবি : কালবেলা

কুয়াশায় ঢেকে থাকা শীতের রাত। আর সেই রাতেই রাজশাহীর তানোরের কয়েলের হাট মধ্যপাড়ায় এলাকায় শিশু সাজিদকে একনজর দেখতে রাতভর মা রুনা বেগমের দীর্ঘ অপেক্ষা।

দুই বছরের ছোট্ট শিশু সাজিদ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর একটার দিকে মায়ের পেছন পেছন হাঁটতেই ছোট্ট শিশু সাজিদ হঠাৎ পড়ে গেল পরিত্যক্ত একটি টিউবওয়েলের ৪০ ফুট গর্তে।

এরপর বিকেল, তারপর সন্ধ্যা। পরে রাত পেরিয়ে সকাল। এরপরেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি শিশুর ছোট্ট ছোট্ট সাজিদকে। অন্ধকার, ঠান্ডা আর শ্বাসরুদ্ধকর সেই গর্তে আটকে রইল কোমল প্রাণটি।

ঘটনার পরই ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের একের পর এক ইউনিট। তিনটি ভেকু মেশিন। পাঁচটি উদ্ধার ইউনিট। মানুষের ঢল। টানটান উত্তেজনা। রাতভর হিমশীতল বাতাসে থমকে থাকা অপেক্ষা।

রাজশাহীর তানোরে দুই বছরের শিশু সাজিদ পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়ার ১৯ ঘণ্টায়ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে শিশুটি যে গর্তের মধ্যে পড়ে যায় সেদিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। তবে এখনো সাজিদের দেখা মেলেনি।

ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতার প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি সরানো ছাড়া শিশু সাজিদকে উদ্ধার সম্ভব হচ্ছিল না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছোট্ট সাজিদকে উদ্ধারে এক্সকাভেটরের খোঁজ করা হচ্ছিল। কিন্তু উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এক্সকাভেটর পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি পুরো তানোর উপজেলায় খোঁজ করেও কোন এক্সকাভেটর পাওয়া যায়নি। অবশেষে রাত ৮টার দিকে পাশের উপজেলা মোহনপুর থেকে ছোট্ট দুটি এক্সকাভেটর এনে মাটি খনন কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় ৪০ ফুট গর্ত করা শেষ হয়। এরপর সেই গর্ত থেকে শিশুটি যে গর্তের মধ্যে পড়ে যায় সেদিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা থেকে সেই সুড়ঙ্গ খোঁড়া চলছে তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির দেখা মেলেনি।

সবসময় সবার সামনে বসে ছিলেন একজন মা রুনা বেগম। কাঁপা হাতে আঁকড়ে ধরে ছিলেন ওঠানামা করা আশা-নিরাশার স্রোত। চোখে নিদ্রাহীনতা, মুখে অসহায়তা, আর বুক ভরা আতঙ্ক।

ছেলের জন্য রাতভর অপেক্ষার পর রুনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের প্রচণ্ড জ্বর ছিল। দাদার সঙ্গে হাটখোলায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু জ্বর থাকায় দাদা নিয়ে যায়নি। সকালে আমি ওষুধ এনে তাকে খাইয়ে দিয়েছি। কে জানত এমন সর্বনাশ অপেক্ষা করছে! আমার অসুস্থ ছেলেটা এখন ৪০ ফুট মাটির নিচে… এই তীব্র শীতে…।’

এতটুকু বলেই কাঁপতে কাঁপতে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন তিনি। প্রতিবার জ্ঞান ফিরেই আবার তাকাচ্ছিলেন সেই গর্তের দিকে—চোখে একমাত্র প্রশ্ন, ‘আমার ছেলেটাকে কি আমি আবার জড়িয়ে ধরতে পারব?’

মায়ের অপেক্ষা, সন্তানের বাঁচার সংগ্রাম, আর মানুষের দোয়া—সব মিলেই রাতটি হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ, নিঃশ্বাস বন্ধ করা প্রতীক্ষার রাত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওয়ারী পাস্তা ক্লাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধসহ আহত ৮

‘মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা ফ্রি করবে জামায়াত’

শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপি নেতা মাহাবুবের জামায়াতে যোগদান

আগামীর জন্য বিনিয়োগ : সিঙ্গার বাংলাদেশের নতুন যুগ

মদিনায় ২১ লাখ বৃক্ষরোপণ করল সৌদি সরকার

এবার নিশিরাতে নির্বাচন করতে দেব না : তারেক রহমান

ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার, গৃহকর্মী পলাতক

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ : হাবিব

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’

পিটিয়ে মানুষ হত্যাকারীদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয় : গোলাম পরওয়ার

১০

প্রেমিক বিবাহিত, সন্তানও আছে! গোপন তথ্য ফাঁস করল চ্যাটজিপিটি

১১

টেলিগ্রামে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারকারী গ্রেপ্তার

১২

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

১৩

নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তি খাতে বছরে ৪০ হাজার কর্মীর চাহিদা, সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

১৪

ইরানে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আজারবাইজান

১৫

‘বি’ ইউনিটের মাধ্যমে শেষ জবির ভর্তি পরীক্ষা

১৬

ক্ষমতার রাজনীতি করতে আসিনি : মান্নান

১৭

ঘুম থেকে উঠে মানুষ নাম নেয় আল্লাহর, একজন নেন আমার : মির্জা আব্বাস

১৮

প্যারাডাইস ল্যান্ডের ‘আশুলিয়া আরবান সিটি’র শুভ উদ্বোধন

১৯

নিজের ছাড়া অন্যের ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না : জামায়াত আমির

২০
X