

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া সেই খোকন চন্দ্র দাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির হোসেন বলেন, আমরা হাসপাতালে কথা বলে জানতে পেরেছি তিনি মারা গিয়েছেন। আমরা খোঁজ নিচ্ছি যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন শরীয়তপুর-৩ আসনের (গোসাইরহাট-ডামুড্যা-ভেদরগঞ্জ) বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন খোকনকে হাসপাতালে দেখতে যাই। তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু সব চেষ্টা বিফলে গেল। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অপু বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান থাকবে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ওষুধ ব্যবসায়ী ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট খোকন দাস। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তার শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় তারা। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় খোকন দাসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে দগ্ধ ও গুরুতর জখম হওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদারকে (২৫) আসামি করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন