

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। বৈধ ঘোষিত দুই প্রার্থী হলেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যাচাই কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর একটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং অপরটি প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর দাখিল করা হয়। যাচাইবাছাই শেষে তার প্রথম দাখিল করা মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, একই প্রার্থী একই দলের পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করলে প্রথম দাখিল করা মনোনয়নপত্রটি যাচাই করা হয়। সেটি বৈধ হলে পরবর্তী মনোনয়নপত্র আর যাচাই করা হয় না।’
অপরদিকে, গোলাম আকবর খন্দকারের দাখিল করা মনোনয়নপত্রও যাচাইবাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়।
একই দিনে চট্টগ্রাম-৬ আসনে দাখিল করা আরও তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নুরী।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাউজান আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকার দুজনই দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং এই আসনে প্রভাবশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচিত। বিষয়টি কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং বিদ্যমান ছিল।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়। এ ঘোষণার পরপরই অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন। পরে সময়ে ওই কর্মসূচি সহিংস রূপ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘরের সামনে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগানের ঘটনাও ঘটে।
দলীয় নেতাদের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় নেয়। শেষ পর্যন্ত গত ২৮ ডিসেম্বর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে গোলাম আকবর খন্দকারকেও একই আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।
একই আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় দলীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে দলীয় গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এতে ভোট বিভক্ত হয়ে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত, প্রত্যাহার বা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি কোন দিকে মোড় নেবে সেটিই এখন রাউজানের রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
মন্তব্য করুন