

সুন্দরবনে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন দুই পর্যটক ও এক রিসোর্টের মালিক। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার করা যায়নি তাদের তিনজনকে। এ ঘটনায় রিসোর্ট মালিকের পরিবার দাকোপ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেছে।
এমনকি বনদস্যু বাহিনীর পরিচয়ে অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।
অপহৃত দুই পর্যটক রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দাকোপ থানা পুলিশের তথ্য মতে, অপহৃত দুই পর্যটক হলেন— মো. সোহেল ও জনি।
জানা গেছে, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নারী-পুরুষসহ চার পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। এদিন দুপুরে তারা সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত রিসোর্ট গোল কাননে বুকিং নিয়ে রাত-যাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকেলে গোল কানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকায় চড়ে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন।
রিসোর্ট সংলগ্ন ওই খাল থেকে নারীসহ ৫ জনকে তুলে নেয় সশস্ত্র দস্যুরা। রাতে দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দেয় দস্যুরা। তবে রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে।
অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারে শুক্রবার থেকে অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন। তবে রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডর আবরার বলেন, অভিযান এখনো চলমান। বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী নদী সুন্দরবন ও লোকালয়কে আলাদা করেছে। ঢাংমারী নদীর দক্ষিণে সুন্দরবন আর পূর্ব পাড়ে বসতি। সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশ কিছু ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে।
রিসোর্ট মালিকদের সংগঠন রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (আরওএএস)-এর এক নেতা জানান, গোলকানন নামের রিসোর্টটি এনজিও ফান্ডে তৈরি, যা কমিউনিটি ট্যুরিজম বিকাশের জন্য স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। রিসোর্টটি তাদের সংগঠনের সদস্য নয়। এ ঘটনায় গোলকানন রিসোর্টের পক্ষ থেকে দাকোপ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন