

প্রেমের টানে মেহেরপুরে বিয়ে করতে এসে বিপাকে পড়ে পরিচয় গোপন করে পালিয়েছেন দুই চীনা নাগরিক।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে দুই চীনা নাগরিক মেহেরপুর সদর থানাধীন আমদহ ইউনিয়নের টেংরামারি গ্রামে উপস্থিত হন। তারা স্থানীয় মৃত লিটনের কন্যার সঙ্গে ফেসবুক প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এলাকায় আসেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় জনগণ ও মেয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল দেয়। পরে সাহেবপুর ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ চীনা নাগরিকদের সঙ্গে মেয়ের পরিবারের আলোচনা আয়োজন করে এবং পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে বিয়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়। তবে চীনা নাগরিকদ্বয় উক্ত প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মেহেরপুর সদর থানার সাহেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই শফিক কালবেলাকে বলেন, টেংরামারি গ্রামের স্থানীয় একজন ট্রিপল নাইনে ফোন দেয়। এরপর আমি সেখানে গিয়ে দেখি দুজন চীনা নাগরিক এসেছেন। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে দুপুর ২টার রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনে করে ঢাকা পাঠিয়ে দিই। তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে বিয়ে করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আজম কালবেলাকে বলেন, আমরা প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখি প্রেমের টানে কোনো বিদেশি নাগরিক অমুক দেশ থেকে অমুক গ্রামে এসেছেন। এ ধরনের ভিডিও প্রায়শই প্রকাশিত হয় এবং দ্রুত ভাইরালও হয়। কিন্তু একইভাবে প্রেমের টানে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের পরিণতি কী হয়, সে বিষয়ে কোনো ফলো-আপ বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আমরা খুব কমই দেখতে পাই।
তিনি বলেন, এই প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনেকেই ভাইরাল হওয়ার আশায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলছেন, পরে বিয়ে করে সেটিও অনলাইনে ভাইরাল করছেন। কিন্তু এরপর কী ঘটে, সেই বাস্তবতা আর কখনো সামনে আসে না।
উল্লেখ্য, র্যাব ও পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে পাচারচক্রের একাধিক সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনে পৌঁছানোর পর অনেক নারী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়েন। এ বিষয়ে চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকার উভয়ই অবৈধ বিয়ে ও মানব পাচার নিয়ে একাধিকবার সতর্কতা জারি করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের যেকোনো বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে বা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আইনগত যাচাই ও সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সন্দেহজনক প্রস্তাব বা কর্মকাণ্ড নজরে এলে নিকটস্থ থানায় জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন