সৌদি আরবে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় গৃহবধূ ছাবিনার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর পালিয়েছেন দালাল রফিকুল। শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে তার মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। এদিকে রফি দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়া অনেকেই সেখানে নির্যাতিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, দালাল রফিকুল এলাকার সহজ-সরল নারীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে নির্যাতন ও অর্থ আদায় করেন। কিছু দিন আগে একই এলাকার হাসান মিয়ার মেয়ে হাসি বেগম দালাল রফিকুলের খপ্পরে পড়ে সৌদি আরবে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও সর্বস্ব হারিয়ে এখন সন্তান নিয়ে দিশাহারা।
হাসি বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, দালাল রফিকুল তাকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরব নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে মালিকের অনৈতিক প্রস্তাব ও খাবারের কষ্টসহ বিভিন্ন কষ্টে ছিলেন।
পরে এলাকায় জানাজানি হলে সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের মধ্যস্থতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন দালাল রফিকুল।
হাসি বেগমের ভাষ্যমতে, তাকে দেশে আনতে ৫০ হাজার টাকা নেন দালাল রফিকুল। হাসি বেগম আরও জানান, সৌদি আরবের ওই এলাকায় আরও ৫-৬ জন নারী আছেন যারা দালাল রফিকুলের মাধ্যম গিয়ে এখনো নিয়মিত নির্যাতিত হচ্ছেন। এই অবস্থায় তার নতুন শিকার হন গৃহবধূ ছাবিনা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বাথপুকুরিয়া গ্রামের আকবর হোসেন জানান, তারই গ্রামের ছেলে রফিকুল। তিনি বিদেশে নারী কর্মী পাঠানোর পরে নির্যাতনের বিষয় নতুন না। এর আগেও বিভিন্ন মেয়েদের নির্যাতনের বিষয়ে শালিস-বিচার করেছি। কিন্তু দালাল রফিকুল তার অভ্যাস পরিবর্তন করেনি।
তিনি জানান, নিহত ছাবিনার শ্বশুর ভ্যানচালক সিদ্দিক মিয়া তাকে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাকে জানান তার গৃহবধূ সৌদি আরবে ৮ তলার ছাদ থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন। তিনি তাকে আরও জানান, ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তাদেরই গ্রামের দালাল রফিকুলের সঙ্গে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য তার ছেলের বৌ ছাবিনা বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। ২৪ তারিখ ছাবিনা সৌদি আরবে পৌঁছানোর তিন দিনের মাথায় ২৬ সেপ্টেম্বর ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। এর আগে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন শেখ বলেন, ‘রফিকুল একজন ক্রিমিন্যাল। তিনি এলাকায় রফি দালাল হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদিসহ বিভিন্ন দেশে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার অভাবি নারী ও গৃহবধূদের বিদেশে পাচার করে আসছেন বলে অভিযোগ আছে। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার অজ্ঞাত কারণে অভিযোগ না করায় তিনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।’ ছাবিনার লাশ ফেরত আনার বিষয়ে তার পরিবার এখনো তার কাছে আসেনি বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন